একাত্তরের পরাজিত শক্তির সঙ্গে ভারতের হাত মেলানোর অভিযোগ নিয়ে বক্তব্যের পরপরই পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৈঠকে দুই দেশের স্বাস্থ্য সহযোগিতা, ওষুধ ও সার্জিক্যাল সরঞ্জাম বাণিজ্য, পাকিস্তানে বাংলাদেশি ভ্যাকসিন ও ক্যান্সারের ওষুধ রপ্তানি এবং বাংলাদেশি চিকিৎসকদের লিভার প্রতিস্থাপনে প্রশিক্ষণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
আজ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সুত্র মতে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ওষুধ, স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়ন, চিকিৎসা প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্যপণ্য বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ও বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।
সাক্ষাতে দুই দেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়ানো, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক (MoU) চূড়ান্ত করা এবং ওষুধ ও স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সার্জিক্যাল সরঞ্জাম ও ওষুধপণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।
সাক্ষাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পাকিস্তানে ভ্যাকসিন ও ক্যান্সারের ওষুধ রপ্তানির পরিমাণ আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে পাকিস্তানি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের হাইকমিশনার দুই দেশের স্বাস্থ্য খাতে অঙ্গ প্রতিস্থাপন বিষয়ে সহযোগিতার বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি জানান, পাকিস্তানের গাম্বাট ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (GIMS) বাংলাদেশি চিকিৎসকদের লিভার প্রতিস্থাপন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে আগ্রহী। পাশাপাশি বাংলাদেশে লিভার প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারে সহযোগিতা এবং টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী চিকিৎসাসেবা দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

