‘সবার জন্য ইসলাম’ ও লেখক আবুল হুসাইন খানের জীবনদর্শন || সাঈদ চৌধুরী

প্রবন্ধ-কলাম সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

ইস্ট লন্ডন মসজিদ ও লন্ডন মুসলিম সেন্টারের ইমাম ও খতীব হাফেজ মাওলানা আবুল হুসাইন খান একজন নীরব সাধক, আধ্যাত্মিক চেতনায় সমৃদ্ধ আলেমে-দ্বীন। বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি ইসলামী ভাষ্যকার হিসেবে সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন। লেখক হিসেবেও দাওয়াতে দ্বীনের খেদমত করে চলেছেন নিরলসভাবে। তাঁর লেখনীতে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও জীবনদর্শন যেমন উঠে আসে, তেমনি ব্যক্তিজীবন, পরিবার, সমাজ ও নৈতিকতার নানা দিক সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপিত হয়।

বেশ কয়েকটি গ্রন্থের রচয়িতা হাফেজ মাওলানা আবুল হুসাইন খান সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন ‘সবার জন্য ইসলাম’। গ্রন্থটিতে ‘আবদ’ (দাস/বান্দা) ও ‘মাবুদ’ (যাঁর ইবাদত করা হয়) এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী পরিভাষার মর্মার্থ অত্যন্ত সাবলীল ও তাৎপর্যপূর্ণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একজন বান্দার প্রকৃত পরিচয় কী এবং তার জীবনের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত- লেখক সেই মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন ইসলামের আলোকে।

তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, একজন দাসের নিজের কোনো অহংকার বা স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ নেই। তার সমগ্র সত্তা তার প্রভুর ইচ্ছা ও নির্দেশের ওপর নির্ভরশীল। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে মালিকের হুকুম যথাযথভাবে পালন করাকেই ইবাদতের মূলমন্ত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। অর্থাৎ মানুষের জীবনের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত রয়েছে তার স্রষ্টার ইচ্ছাকে জানা এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মধ্যে।

‘সবার জন্য ইসলাম’ গ্রন্থে শরীয়তের মৌলিক ধারণাগুলো অত্যন্ত সহজ ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে। ইবাদতের ধারণাটিকেও লেখক চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর আলোচনায় ইবাদত শুধু নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের মতো নির্দিষ্ট ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একজন মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলাই ইবাদতের বিস্তৃত অর্থ। আল্লাহর বিধানকে জীবনে বাস্তবায়ন করা এবং তাঁর সন্তুষ্টিকে জীবনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করাই প্রকৃত ইবাদত। এটিই লেখকের প্রধান জীবনদর্শন।

১৪৭টি প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে হাফেজ মাওলানা আবুল হুসাইন খান ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পাঠকের সামনে সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, মানুষের জীবনের মূল উদ্দেশ্য মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। একজন বান্দা যেমন সবসময় খেয়াল রাখে তার মনিব কোন কাজে সন্তুষ্ট হন এবং কোন কাজে অসন্তুষ্ট হন, তেমনি একজন মুমিনেরও উচিত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহ কী চান, তা জানা এবং সে অনুযায়ী নিজেকে পরিচালিত করা।

মানুষের প্রতিটি কাজের হিসাব সংরক্ষিত হচ্ছে এবং একদিন সবকিছুর জন্য জবাবদিহি করতে হবে- এই চেতনাও গ্রন্থটিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাই পরকালের জবাবদিহি ও শাস্তির কথা স্মরণ রেখে জীবন পরিচালনার পাশাপাশি জ্ঞান অর্জন, কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা গ্রহণ এবং বিশেষ করে কুরআন বুঝে পড়ার প্রতি লেখক পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

ইসলামী পরিভাষায় মুরতাদ, মুশরিক, বিদআত ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও গ্রন্থটিতে আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি শরিয়তের সীমারেখা মেনে চলা, ব্যক্তিগত নৈতিকতা রক্ষা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। মিথ্যাচার, জিনা-ব্যভিচার-সহ সব রকম অনৈতিক কাজ থেকে দূরে থাকার ব্যাপারেও পাঠককে সতর্ক করা হয়েছে।

শুধু ব্যক্তিজীবন নয়, সমাজের নানা ব্যাধি নিয়েও বইটিতে আলোচনা রয়েছে। দাবা ও জুয়ায় অতিরিক্ত আসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব ও মানসিক চাপ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি পরনিন্দা, লোভ, সুদ, ঘুষ, চুরি ও জালিয়াতির মতো কদর্য, ঘৃণ্য, কুৎসিত, নৈতিক ও সামাজিক অপরাধ সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। এসব অনাচার থেকে মুক্ত হয়ে কীভাবে একটি সুস্থ, সুন্দর ও নৈতিক সমাজ গড়ে তোলা যায়, সেদিকেও পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন লেখক।

পারিবারিক জীবন নিয়েও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। কুসংস্কারমুক্ত ইসলামী পরিবার গঠন, সন্তানের বিয়ে, আত্মীয়স্বজনের হক, পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য, তাঁদের সঙ্গে সদাচরণ এবং বার্ধক্যে তাঁদের যত্ন নেওয়ার মতো বিষয়গুলো লেখায় অগ্রাধিকার পেয়েছে। একই সঙ্গে অমুসলিমদের সামাজিক অধিকার রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ‘সবার জন্য ইসলাম’ এমন একটি গ্রন্থ, যেখানে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা থেকে শুরু করে ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ব ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।

জটিল বিষয়গুলোকে সহজ ভাষায় বোঝানোর চেষ্টা বইটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ফলে অল্পশিক্ষিত থেকে উচ্চশিক্ষিত- সব শ্রেণির পাঠকের কাছেই ইসলামের নির্দেশনা সহজে বোধগম্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বস্তুত, একজন মানুষ ‘আবদ’ হিসেবে কীভাবে তার ‘মাবুদ’ এর সন্তুষ্টিকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারে- এই মৌলিক উপলব্ধিকে সহজ ভাষায় পাঠকের সামনে তুলে ধরাই গ্রন্থটির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

বহুমাত্রিক কর্মের পরিচয় ও পরিসরে আবুল হুসাইন খানের জীবন ব্যাপৃত। ন্যায়পরায়ণতা ও সত্যনিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সৎ, সাহসী ও দৃঢ়চেতা সংগঠক হিসেবে সর্বমহলে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর নেতৃত্বে শত শত শিক্ষার্থী ইসলামী আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।

বহুমুখী প্রতিভাধর হাফেজ মাওলানা আবুল হুসাইন খান স্বাধীন বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন একজন দীপ্তিমান ও মননশীল লেখক। তিনি একজন মহৎপ্রাণ ও সাদা মনের মানুষ। সংলাপ সাহিত্য-সংস্কৃতি ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে উপদেষ্টা হিসেবে দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

সংস্কৃতিচর্চায় সক্রিয় অংশগ্রহণ লেখক আবুল হুসাইন খানের মুক্ত মন, মনন ও মানসের পরিচয় বহন করে। দ্বীন ও শরিয়তের গভীর জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তা নিজের জীবনে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তিনি সর্বাত্মকভাবে সচেষ্ট। তাঁর মতে, কেবল বইয়ের পাতা কিংবা তাত্ত্বিক আলোচনা থেকে জ্ঞান ও তথ্য সংগ্রহ করাই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব কর্মক্ষেত্র ও দৈনন্দিন আচরণে প্রয়োগ করাই প্রকৃত সাফল্য। তত্ত্ব তখনই সার্থক হয়ে ওঠে, যখন তা বাস্তব জীবনে কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হয়। তাই, আল্লাহপ্রদত্ত এবং রাসুল (সা.) প্রদর্শিত জীবনপদ্ধতি অনুসরণে নিজের জীবন পরিচালনার মধ্যেই তিনি জীবনের সার্থকতা খুঁজে পান।

সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে আমি যখন দাখিল শ্রেণির ছাত্র, তিনি তখন কামিল পরীক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য একটি দেয়ালিকা প্রকাশের উদ‌্যোগ গ্রহণ করা হয়। তখন আমাকে ‘তাহরিক’ নামের দেয়ালিকার সম্পাদক মনোনীত করা হয়। এর পেছনে ছিলেন শ্রদ্ধেয় প্রিন্সিপাল প্রফেসর আব্দুল মান্নান এবং কামিল শ্রেণির যেসব শিক্ষার্থী আমার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছিলেন, আবুল হুসাইন খান তাঁদের অন্যতম।

কামিল তথা মাস্টার্স-সমমানের প্রতিষ্ঠান সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসায় দাখিল শ্রেণিতে অধ্যয়নকালেই প্রথমবারের মতো ছাত্র সংসদের সম্পাদকীয় পদে আমাকে মনোনীত করার পেছনেও তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল। এমনকি দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায়ই জাতীয় দৈনিকে সিলেট প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাই। এ ক্ষেত্রেও তাঁর অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ ছিল আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অকৃত্রিম ভালোবাসা, আস্থা ও নিরন্তর উৎসাহ আমার পথচলায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। এই ভালোবাসা আমাকে আজও আপ্লুত করে।

২০০০ সালের জানুয়ারি মাসে আমি লন্ডনে আসি। প্রথম দিন থেকেই ইস্ট লন্ডন মসজিদে প্রায় নিয়মিত যাতায়াত করি। এলএমসি কমপ্লেক্সের বিজনেস উইংয়ে ১৫ বছরের অধিক আমার সংবাদ সংস্থা মিডিয়া মহলের অফিস ছিল। ফলে ইউরোপের বৃহৎ ইসলামী কমপ্লেক্স ‘লন্ডন মুসলিম সেন্টার (এলএমসি) ও ইস্ট লন্ডন মসজিদের বহুমুখী কার্যক্রমের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ও সহায়ক হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এখানেও হাফেজ মাওলানা আবুল হুসাইন খান আমার সার্বিক খোঁজখবর নেন।

আমার (সাঈদ চৌধুরী) সম্পাদিত ফ্ল্যাগশিপ প্রকাশনা ‘ইউকে বাংলা ডাইরেক্টরি’, ‘ইউকে এশিয়ান রেস্টুরেন্ট ডাইরেক্টরি’ এবং ‘মুসলিম ইন্ডেক্স’ প্রকাশের বিভিন্ন পর্যায়ে শায়েখ আবুল হুসাইন খান সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। বিশেষ করে ৫৭টি দেশের তথ্য, তত্ত্ব ও পরিসংখ্যানসমৃদ্ধ ‘মুসলিম ইন্ডেক্স’ প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনাটি প্রস্তুত ও প্রকাশের কাজে তৎকালীন এলএমসি চেয়ারম্যান লেখক ও গবেষক ড. আব্দুল বারী, মুসলিম এইডের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী ব্যারিস্টার হামিদ আজাদ এবং লন্ডন মুসলিম সেন্টার ও ইস্ট লন্ডন মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফিজ মাওলানা আবুল হুসাইন খান গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। তাঁদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও আন্তরিক সহযোগিতা ‘মুসলিম ইন্ডেক্স’ প্রকাশের কাজকে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁদের অকৃত্রিম ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ।

২০০৯ সালের ২৯ এপ্রিল লন্ডন মুসলিম সেন্টারে আমরা তৎকালীন ওআইসি মহাসচিব প্রফেসর ড. একমেলেদ্দিন ইহসানগ্লু’র সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। পরবর্তী সময়ে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় স্কলারদের সঙ্গেও মতবিনিময় করি। এসব যোগাযোগ ‘মুসলিম ইন্ডেক্স’র তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ প্রক্রিয়ায় লন্ডনে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনও তাঁদের নিজ নিজ দেশের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে বিশেষ সহযোগিতা করেছে। ফলে ‘মুসলিম ইন্ডেক্স’ শুধু একটি ডাইরেক্টরি হিসেবে নয়, বরং বিভিন্ন দেশের মুসলিম সমাজ, প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্যকে একত্রিত করার একটি উল্লেখযোগ্য প্রয়াস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

আবুল হুসাইন খানের ইমামতি আমাকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। নামাজে তেলাওয়াতের সময় তাঁর খোদাভীতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেক সময় তিনি অন্তরের গভীর থেকে গুমরে ওঠা কান্না চেপে রাখতে পারেন না। একজন বুজুর্গ আলেম ও হাফেজে কুরআনকে কাছ থেকে পেয়ে বহু মুসল্লি মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন।

বৃটেনের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ইস্ট লন্ডন মসজিদ ও লন্ডন মুসলিম সেন্টারের ইমাম ও খতীব হিসেবে হাজার হাজার মানুষ শায়েখ আবুল হুসাইন খানের জ্ঞানগর্ভ বয়ান থেকে উপকৃত হচ্ছেন। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে সালাত আদায় করেন। জুমার দিনে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের কাছে এলএমসি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক কেন্দ্র।

বৃটেনসহ ইউরোপের মুসলমানদের জন্যও এই প্রতিষ্ঠান বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। নতুন প্রজন্মের বহু তরুণ এখান থেকে ইসলামী জ্ঞান, নৈতিক শিক্ষা ও জীবন পরিচালনার প্রেরণা লাভ করেন।

শায়েখ আবুল হুসাইন খান বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সামাজিক কর্মকাণ্ড, চলমান ইস্যু ও ইসলামী জীবনাচার বিষয়ে আলোকপাত করেন। দারুণ সাবলীল তাঁর কথার ভঙ্গি এবং সহজে বোধগম্য বক্তব্য। অনাহুত জ্বালাময়ী নয়, কিন্তু অন্তর্ভেদী। আলোচনা শুনলে মনে হয়, তিনি শ্রোতার সঙ্গে আলাপচারিতায় আছেন। তাকে ভাবতে ও নিজের জীবনকে নতুন করে পর্যালোচনা করতে আহ্বান জানাচ্ছেন। এমন শান্তিপূর্ণ বয়ান হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। মানুষকে আল্লাহপ্রদত্ত এবং রাসুল (সা.) প্রদর্শিত পথে চলার প্রতি আকৃষ্ট করে। একই সঙ্গে স্রষ্টার আরাধনা এবং সৃষ্টির হক সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।

ইসলামিক স্কলার শায়েখ আবুল হুসাইন খানের ব্যক্তিত্ব, ইমামতি, লেখনী ও বক্তৃতার মধ্যে একটি গভীর ঐক্য খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি যে জীবনদর্শনের কথা ‘সবার জন্য ইসলাম’ গ্রন্থে তুলে ধরেছেন, তাঁর নিজের জীবন ও কর্মেও সেই দর্শনের প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায়। তাই, ‘সবার জন্য ইসলাম’ শুধু একটি বইয়ের নাম নয়; এটি ইসলামকে বোঝা, জীবনকে পরিশুদ্ধ করা এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে নৈতিকতার আলোয় গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি সহজ জীবনদর্শনেরও প্রকাশ।

* সাঈদ চৌধুরী দৈনিক সময় ও মানব টিভি সম্পাদক, কবি ও কথাসাহিত্যিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *