সাঈদ চৌধুরী
লন্ডনে বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএ) ১৯তম অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে সম্মাননা পেলেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী, শেফ, উদ্যোক্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ব্রিটেনের কারি শিল্পের সাফল্য, ঐতিহ্য ও অবদানকে উদ্যাপন করতে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো নান্দনিক অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠান ও গালা ডিনার।

রোববার রাতে লন্ডনের পার্ক প্লাজা ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ হোটেলে আয়োজিত এ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার অতিথির উপস্থিতিতে বসেছিল ব্রিটিশ বাংলাদেশি আতিথেয়তা ও রেস্টুরেন্ট শিল্পের তারকাদের মিলনমেলা।
ব্রিটেনের জনপ্রিয় খাদ্যসংস্কৃতি কারি শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হাজারো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, লাখ লাখ কর্মসংস্থান এবং অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা। এই শিল্পের অগ্রযাত্রায় অবদান রাখা রেস্টুরেন্ট, শেফ, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দিতেই আয়োজন করা হয় এ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অনুষ্ঠান।
বর্ণাঢ্য গালা ডিনারে ব্রিটিশ বাংলাদেশি ক্যাটারিং ও হসপিটালিটি খাতের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান উদ্যোক্তারাও অংশ নেন।

অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন টকটিভির উপস্থাপক ইয়ান কলিন্স এবং একাধিক পুরস্কারজয়ী টিভি উপস্থাপক সাংবাদিক আনিলা ধামি।
এবারের বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব পায় ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস এবং প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের শুভেচ্ছাবার্তা। অনুষ্ঠানের স্মারক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এসব বার্তায় আয়োজকদের জানানো হয় প্রীতি ও শুভকামনা।

বাকিংহাম প্যালেস থেকে পাঠানো বার্তায় রাজা তৃতীয় চার্লস অ্যাওয়ার্ডস আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বিজয়ীদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি ব্রিটেনের অর্থনীতি ও স্থানীয় কমিউনিটিতে বাংলাদেশি আতিথেয়তা ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মানসূচক অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় এমপি কেভিন বোনাভিয়া, ব্রিক লেনের বিশিষ্ট উদ্যোক্তা আবদুল জব্বার এবং মানবাধিকারকর্মী ড. নাজিয়া খানম ওবিইকে। জনসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সমাজের কল্যাণে তাঁদের নিজ নিজ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মুহিত, https://www.facebook.com/reel/2189982428613597 এমপি সীমা মালহোত্রা, এমপি রূপা হক, কেভিন বোনাভিয়া, স্যার জেমস ক্লেভারলি, ড্যানিয়েল জাইখনার, লর্ড করণ বিলিমোরিয়া, লর্ড কুরবান হুসেইন এবং লর্ড রামি রেঞ্জার সিবিই-সহ বিশিষ্ট রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।

স্বাগত বক্তেব্যে বিসিএ সভাপতি অলি খান এমবিই বলেন, ব্রিটিশ বাংলাদেশি ক্যাটারিং ও হসপিটালিটি শিল্পের এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে এক ছাদের নিচে একত্রিত হতে দেখে তিনি আনন্দিত। তাঁর মতে, এ পুরস্কার শুধু ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সাফল্যের স্বীকৃতি নয়, বরং এই শিল্পের মানুষ, ঐতিহ্য ও সম্মিলিত অর্জনকে উদ্যাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
https://www.facebook.com/reel/28754147260924589
বিসিএর সাধারণ সম্পাদক টিপু রহমান বলেন, শিল্পের উচ্চমান বজায় রাখতে যাঁরা নিরলসভাবে কাজ করছেন, তাঁদের স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হচ্ছে এই অ্যাওয়ার্ডস। বিজয়ীদের অর্জন তাঁদের আরও গর্বিত করবে এবং পুরো শিল্পকে সামনে এগিয়ে নিতে অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
https://www.facebook.com/reel/5049354425345878
বিসিএর কোষাধ্যক্ষ ফয়জুল হক বলেন, একটি সফল রেস্টুরেন্টের পেছনে থাকেন একজন উদ্যোক্তা এবং নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের দল। তাঁরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এই পুরস্কারের মাধ্যমে তাঁদের সেই অবদানকে সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে।

বিসিএর প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স সেক্রেটারি নাজ ইসলাম বলেন, ব্রিটেনে বাংলাদেশি খাবারের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের গল্প তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ আয়োজন বিশেষ ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি নতুন প্রতিভাদের স্বীকৃতি দিতে পারাও আনন্দের বিষয়।
বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস কমিটির কনভেনার ও সেলিব্রিটি শেফ আতিক রহমান বিএইএম বলেন, ব্রিটিশ বাংলাদেশি ক্যাটারিং ও হসপিটালিটি শিল্পের এত মানুষের সম্মিলন সত্যিই আনন্দের। এ আয়োজন একদিকে যেমন নিজেদের ঐতিহ্য ও অর্জনকে তুলে ধরে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মকে এই শিল্পের ভবিষ্যৎ গড়তে অনুপ্রাণিত করে।


উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬০ সালে। সংগঠনটি বর্তমানে ব্রিটেনজুড়ে প্রায় ১২ হাজার রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীর প্রতিনিধিত্ব করছে।
ব্রিটেনের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, খাদ্যসংস্কৃতি এবং বহুজাতিক সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদান তুলে ধরতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।
১৯তম বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস তাই কেবল পুরস্কার বিতরণের অনুষ্ঠান নয়, এটি ব্রিটেনে বাংলাদেশিদের ব্যবসায়িক সাফল্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এগিয়ে যাওয়ার এক উজ্জ্বল উদ্যাপন।
* সাঈদ চৌধুরী দৈনিক সময় ও মানব টিভি সম্পাদক, কবি ও কথাসাহিত্যিক

