রিপোর্ট করছেন জান্নাতুল তানভী, সম্পাদনায় কাদির কল্লোল বিবিসি
শ্রমিক নেতাদের সাথে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন ‘এটা আন্দোলন নয়’
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণের দাবিতে আজও গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে সকাল থেকে বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকরা। আশুলিয়া ও মিরপুরেও চলছে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ। এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, যেসব শিল্প মালিকদের নিষিদ্ধ সংগঠনের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল, তারা পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতার পেছনে কাজ করছে বলে সরকারের কাছে প্রমাণ রয়েছে।

গার্মেন্টস শ্রমিক নেতাদের সাথে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাক কারখানার শ্রমিকদের ঘরে ও কর্মস্থলে বা কারখানায় ফিরে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন।
“এটা আন্দোলন নয়। শ্রমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো আন্দোলন এখন চলছে না। শ্রমিকদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠন করা। সেটা হয়েছে। এখন যারা আন্দোলন করছে, তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে। তারা ফ্যাসিবাদি গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়েছে। সেগুলো চিহ্নিত হয়েছে,” বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সড়ক মহাসড়কে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, তারা অবশ্যই শ্রমিকের বন্ধু হতে পারে না এবং তাদের ভিন্ন স্বার্থ থাকতে পারে। “আপনাদের মজুরির বিষয়টি মজুরি বোর্ড দেখছে। ওইখানে আপনাদের প্রতিনিধি আছে। মালিকদের প্রতিনিধি আছে। সবাই মিলে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখবো। অর্থনীতি সচল থাকবে। কারখানা চালু থাকবে,” বলছিলেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এই ধর্মঘট আহবান করেনি। তবে তাদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠন করা এবং সরকারের দিক থেকে সেই মজুরি বোর্ড গঠন হয়েছে। বোর্ডের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
বৈঠকে শ্রমিক নেতাদের মধ্যে যারা যোগ দিয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বাবুল আখতার। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সব শ্রমিকেরা কাজ করতে চায়। কিন্তু বহিরাগতরা এসে ঢিল মেরে ছুটি দিতে বাধ্য করে ও শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে যায়। “এতে কিছু বেতন না পাওয়া শ্রমিক আছে। আবার এতে উচ্ছেদ হওয়া হকার আছে, রাজনৈতিক লোকজনও আছে। কিছু শ্রমিক বাদ দিলে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা আন্দোলনে ছিল না,” বলছিলেন তিনি।
তিনি জানান, শ্রমিক সংগঠনগুলো বসে শ্রমিকদের জন্য একটি প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করে মজুরি বোর্ডের প্রথম সভাতেই উপস্থাপন করবেন।

