সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা
গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে নেমেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর দেড়টার দিকে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার নওয়াপাড়া মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের বহর পৌঁছালে আয়োজিত এক অনির্ধারিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটে জনগণের ৭০ শতাংশের রায় বাস্তবায়ন করতে আমরা রাস্তায় নেমেছি। আমাদের দাবি স্পষ্ট। সাত দফা দাবি কোনো দলীয় দাবি নয়, এগুলো জনগণের দাবি। জনগণ যেহেতু রাস্তায় নেমেছে, এ দাবি আদায় হবে ইনশাআল্লাহ।
চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের দাবি তুলে ধরে আমীরে জামায়াত বলেন, আন্দোলনের মূল লক্ষ্য একটি মানবিক, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।
১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চ সকাল ৭টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। উদ্বোধনী কর্মসূচি শেষে লংমার্চের বহর ঢাকা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে যাত্রা করে।
পথে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা এবং গোপালগঞ্জের কাশিয়ানিতে পথসভায় অংশ নেন নেতারা। এরপর বাগেরহাটের ফকিরহাটের নওয়াপাড়া মোড়ে পৌঁছে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান।
নওয়াপাড়ার কর্মসূচি শেষে লংমার্চের বহর ফকিরহাটের কাঁটাখালী মোড়ের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানকার পথসভা শেষে খুলনার দিকে যাত্রা করবে বহরটি।
লংমার্চের পরবর্তী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বর, ফুলতলার স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মুড়লীর মোড় এবং ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভা। এসব কর্মসূচিতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন। দিনব্যাপী এই কর্মসূচির শেষ পর্বে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
লংমার্চের পুরো পথজুড়ে বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা সমবেত হয়ে বহরকে অভ্যর্থনা জানানোর কর্মসূচি রেখেছেন। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা ও অভিবাদন গ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে অনানুষ্ঠানিক বক্তব্য দেবেন জোটের শীর্ষ নেতারা।
উল্লেখ্য, সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্য এর আগে আরও দুটি লংমার্চ কর্মসূচি পালন করে। গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রথম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম অভিমুখে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয় রংপুর অভিমুখে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ঢাকা থেকে খুলনা, ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনমত গঠন ও দাবি আদায়ের আন্দোলনকে আরও জোরালো করতেই এ কর্মসূচি।

