নির্বাচনে অনিয়ম, ফল ঘোষণার পর জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ফুল নিয়ে বিএনপির নবনির্বাচিত এমপি

বাংলাদেশ সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে অনিয়ম, কারচুপি ও জালভোটের অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা চলার মধ্যেই দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরদিনই প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ফুলের তোড়া নিয়ে হাজির হলেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমিন। আর তাঁকে স্বাগত জানিয়ে রাজনৈতিক সৌজন্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়ায় দেলাওয়ার হোসেনের বাসায় যান মির্জা ফয়সল আমিন। এ সময় তিনি ফুলের তোড়া দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানান। দুই নেতা কুশল বিনিময় করেন এবং পরস্পরকে মিষ্টিমুখ করান।

নির্বাচনের আগে একই আসনে জয়লাভের জন্য যাঁরা নিজ নিজ দলের পক্ষে প্রচারণা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্যস্ত ছিলেন, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তাঁদের এমন আন্তরিক সাক্ষাৎ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে শুরু থেকেই নানা অভিযোগ সামনে আসে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন এবং তাঁর দল নির্বাচন চলাকালে ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি ও জালভোটের অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগের মধ্যে ছিল— ভোটার উপস্থিত হওয়ার আগেই ব্যালট পেপারে সিল মেরে রাখা, পরিচয়পত্র ছাড়া কিংবা পরিচয়পত্রে ছবি না থাকা ব্যক্তিদের ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন এবং ভুয়া ভোটার দিয়ে ভোট দেওয়ার চেষ্টা। এমনকি জালভোট দিতে গিয়ে আটকের ঘটনাও আলোচনায় আসে।

নির্বাচন চলাকালে এসব বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ জানান জামায়াত মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সংশ্লিষ্ট পক্ষের নেতারা।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচন ঘিরে অনিয়ম, কারচুপি ও জালভোটের অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন।

এদিকে, ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার পর বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১১-দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।

বিজয়ী হওয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় গিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর মধ্য দিয়ে মির্জা ফয়সল আমিন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে পারস্পরিক সম্মান ও সৌজন্যের বার্তা দেন।

সাক্ষাৎকালে তিনি বলেন, আগামীর ঠাকুরগাঁও গড়ে তুলতে সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান। শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও বৈষম্যহীন জনপদ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি দেলাওয়ার হোসেনের সহযোগিতাও কামনা করেন।

জবাবে জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এলাকার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইতিবাচক উদ্যোগে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান, জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহাম্মদ, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মামুন উর রশিদ, পৌর বিএনপির সহসভাপতি আতাউর রহমানসহ উভয় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *