হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী সিলেট :
সিলেট মহানগরীর রায়নগর এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসার বৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রী ও এক গৃহপরিচিকা খুনের ঘটনায় পুলিশ ৬ ঘন্টার মাথায় বাবুল মিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। আজ বুধবার বিকাল প্রায় সাড়ে ৩টার দিকে রায়নগর এলাকায় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত বাবুল মিয়া রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা। মূল বাড়ি চাঁদপুর এবং পেশায় রংমিস্ত্রি হলেও মাঝে মধ্যে কসাইয়ের কাজ করে বলে জানা যায়।
বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে ৭ টায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। তিনি বলেন, বুধবার সকাল ৯টা ২৫ থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে ভয়াবহ ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটে। পরে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে বাবুল মিয়াকে শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে জানান তিনি। বাবুলের সাথে গৃহপরিচিকার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানা গেছে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, নিহত আব্দুস সাত্তার ও তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং তাদের গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার পূর্বপরিচয় ছিল। প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাবুল মিয়া বিভিন্ন সময় রাজমিস্ত্রি ও রংমিস্ত্রির কাজ করতো এবং ওই বাড়িতেও আগে কাজ করেছে।
কমিশনার আরো জানান, বুধবার বাবুল মিয়া একটি ছুরি নিয়ে ওই বাড়িতে যায়। দরজায় নক করলে গৃহকর্মী তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। পরে একটি কক্ষে গিয়ে তাহমিনার সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবুল মিয়া ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করে। এ সময় সুরাইয়া এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় এবং একপর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলে তিনজনকে হত্যার পর বাবুল মিয়া বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সে রায়নগর এলাকায় নিজের বাড়িতে ফিরে আসে। পুলিশের গঠিত বিশেষ টিম তাকে গ্রেফতার করে। সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি বাবুল মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়।
এদিকে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির।

