বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দিতে হলে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। শুধু একাডেমিক শিক্ষায় ভালো ফল কিংবা সার্টিফিকেট অর্জনই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি নৈতিকতা, আদর্শ ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জন করে অন্যদের চেয়ে নিজেকে এগিয়ে নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এমসি কলেজ অডিটোরিয়ামে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরির প্রত্যয়’ নিয়ে কলেজ ছাত্রশিবির এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের সহস্রাধিক নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, ভালো কিংবা খারাপ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার বিষয়টি অনেকাংশেই নিজের হাতে। বাবা-মায়ের স্বপ্নকে সফল করতে শিক্ষার্থীদের ভালো পথে থাকতে হবে, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা ও আদর্শ জীবন গঠনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের উন্নয়ন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং পরিবর্তিত বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রস্তুত হতে হবে। শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে ছাত্রশিবির পাশে থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এমসি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আবু তাহের মিসবাহ। কলেজ সেক্রেটারি অলিদ হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, কেন্দ্রীয় তথ্য ও মানবাধিকার সম্পাদক তানজির হোসাইন জুয়েল, সিলেট মহানগর সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু এবং মহানগর শিক্ষা সম্পাদক সাইফুর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মেয়র প্রার্থী ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, এমসি কলেজ ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন, শাহজাহান আলী, অ্যাডভোকেট ইয়াসিন খান, আব্দুল্লাহ আল ফারুক, আবু তাহের ফাহিম, এনামুল ইসলাম এনাম ও ইসমাইল খান সৌরভ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রুম্মান আহমদ। এরপর দিশারী শিল্পীগোষ্ঠীর বরণসঙ্গীতের মধ্য দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। নবীনদের পক্ষ থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন ইংরেজি বিভাগের কাজী তাসকিয়া ও ইতিহাস বিভাগের মুহিতুর রহমান।
আলোচনা ও বরণপর্ব শেষে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মুস্তায়িনুর রহমান মওদূদ ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন। নবীন বরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনলাইন রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে সার্টিফিকেট ও অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়।
এ ছাড়া অডিটোরিয়ামের বাইরে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের জন্য আয়োজন করা হয় ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইনের। সবশেষে সভাপতি মো. আবু তাহের মিসবাহের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। পরে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপহার ও খাবার বিতরণ করা হয়।

