জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দলের ১০ সদস্যের কমিটি গঠিত

বাংলাদেশ সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

ভয়াবহ জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) সংসদের অধিবেশন চলাকালে সরকারি দলের ৫ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন। তারপর বিরোধী দলীয় নেতা আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান ৫ সদস্যের তালিকা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। সরকার দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, মানিকগঞ্জ-২ আসনের মঈনুল ইসলাম খান শান্ত এবং শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন অপু।

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে মনোনীত ৫ সদস্য হলেন- জামায়াতের ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাইফুল আলম, ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বাতেন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম, এনসিপির কুমিল্লা-৪ আসনের  আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ ও খেলাফত মজলিসের সিলেট-৫ আসনের মোহাম্মদ আবুল হাসান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের ‘যৌক্তিক সমাধান’ খুঁজতে জাতীয় স্বার্থে যৌথভাবে কাজ করার লক্ষ্যে ১০ সদস্যের যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাবে একমত হয়েছেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ অধিবেশন পরিচালনা করছিলেন।

গত বুধবার জাতীয় সংসদে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা সরকারের সঙ্গে বসে সমাধান খোঁজার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও কিছু পরামর্শ আছে, সেগুলো নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তাই সমানসংখ্যক সদস্য নিয়ে একটি সংসদীয় কমিটির প্রস্তাব করেন।

বৃহস্পতিবার সংসদ নেতার এই কমিটি ঘোষণার পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমাম বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা আশা করি এই সংসদ জাতীয় সকল সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে ইনশাল্লাহ।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, অন্যান্য এলাকার মতো সংসদ ভবনেও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হলে জনগণের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা যাবে যে সরকার বৈষম্যহীন নীতি বাস্তবায়নে আন্তরিক।

তবে এ সময় স্পিকার অধিবেশন পরিচালনায় সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরলে বিরোধীদলীয় নেতা স্পষ্ট করেন, তিনি সংসদের অধিবেশন নয়, বরং সংসদ ভবনের অন্যান্য কার্যক্রমকে লোডশেডিংয়ের আওতায় আনার কথা বলেছেন। অধিবেশনের বাইরে ভবনে নানা প্রশাসনিক ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম চলে, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা প্রয়োগ করা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করে বলেন, সংসদ থেকেই যদি এই উদ্যোগের সূচনা হয়, তাহলে জনগণ বুঝতে পারবে যে দেশকে একটি সমতাভিত্তিক ব্যবস্থায় এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের পদক্ষেপে সরকারের প্রতি জনআস্থা বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *