চলমান যুদ্ধের মাঝেই ইসরায়েলের সাথে আলোচনা বসতে যাচ্ছে লেবানন। লেবানন-ইসরায়েল বৈঠকে অংশ নেবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-ও। বৈঠকে মার্কো রুবিও’র অংশ নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফের আলোচনা হতে পারে, এমন একটি আলাপ শোনা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “অন্য পক্ষ” থেকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ইরান “খুব মরিয়া হয়ে” একটি চুক্তি করতে চায়।
আজ মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। ইসরায়েলের ইয়েশিয়েল লাইটার এবং লেবাননের নাদা হামাদেহ মাওয়াদ যুক্তরাষ্ট্রের সময় বেলা সাড়ে ১১টায় স্টেট ডিপার্টমেন্টে রুবিওকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনায় বসবেন।
এই বৈঠকের লক্ষ্য দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো, যেখানে ইসরায়েল লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ’র অবস্থানকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। আর এই হামলার ফলে লাখ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত ও ছয় হাজার পাঁচশোর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার হেজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাশেম লেবাননকে ইসরায়েলের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকটি বাতিল করার আহ্বান জানান। ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পথে যাওয়ার বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যান করেছে হেজবুল্লাহ।
এদিকে, আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটায় রুবিও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি’র সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজের ব্রেট বায়ারকে বলেন গত সপ্তাহে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, “এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা ইরানের।” আরও বলেন, ইরানকে নমনীয় হতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র যে “গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো” চায়, তা মানতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ। সেইসাথে, এমন একটি যাচাই ব্যবস্থা চালু করা, যা নিশ্চিত করবে যে ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।
হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে তেলের দামে পতন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফের আলোচনা হতে পারে, এমন একটি খবরের পর এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। বিশ্ববাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দুই দশমিক দুই শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক শূন্য দুই ডলারে নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দামও একই হারে কমে প্রায় ৯৬ দশমিক ৯০ ডলারে এসেছে।
গত সপ্তাহে ইসলামাবাদের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানি তেল রপ্তানি বন্ধের নির্দেশ দিলে সোমবার তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গিয়েছিল। এদিকে, এশিয়ার শেয়ারবাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক দুই দশমিক চার শতাংশ বেড়েছে, আর দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক তিন শতাংশের বেশি বেড়েছে।
পাঁচ বছরের জন্য পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিতের প্রস্তাব ইরানের: প্রতিবেদন
এদিকে, আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের সময়সীমার ওপর জোর দিয়ে সেই প্রস্তাব নাকচ করেছে। সিনিয়র ইরানি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এমনটাই জানিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তেহরানের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা নিয়ে দুই দেশ নিজেদের প্রস্তাব আদান-প্রদান করেছে। তবে সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো তাদের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে।
তবু এসব আলোচনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। সামনে তাদের একটি দ্বিতীয় দফা বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিবিসি হোয়াইট হাউজের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এই সংঘাতের অন্যতম প্রধান জটিল বিষয় হিসেবেই রয়ে গেছে। গত রোববার ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করবে যে ইরান যাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। সুত্র: বিবিসি ও আলজাজিরা

