যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের কেবিনেটে বৈচিত্র্যময় চমক সৃষ্টির সম্ভাবনা!

যুক্তরাজ্য সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

সাঈদ চৌধুরী

যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হলেন অ্যান্ডি বার্নহাম। এই দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে গত চার বছরে তিনি হলেন দেশটির পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী। ব্রেক্সিট-পরবর্তী এক দশকে এটি যুক্তরাজ্যে বেশ বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন।

ভিডিও নিউজ লিংক: https://www.facebook.com/reel/1849097722738229

স্যার কিয়ের স্টারমারের পদত্যাগের পর সোমবার নতুন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন সদ্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। এরপর রাজা মি. বার্নহামকে ডেকে সরকার গঠনের অনুরোধ জানান। রাজার প্রস্তাব মোতাবেক তিনি প্রধানমন্ত্রী ও ফার্স্ট লর্ড অব দ্য ট্রেজারি নিযুক্ত হয়ে চার্লসের সাথে করমর্দন করেছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে বাকিংহাম প্যালেস।

গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইতিমধ্যে সোশ্যাল কেয়ার সংস্কার-সহ বিভিন্ন পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেওয়া প্রথম ভাষণে দেশের নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ভার কমানোর আশ্বাস দিয়ে অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছেন, আমি যত পদক্ষেপ নিবো, তার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে মানুষের সেবা। এক্ষেত্রে গৃহহীনদের থাকার জায়গার ব্যবস্থা করার বিষয়ে প্রথমে নির্দেশনা জারি করবেন বলে জানান নতুন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে অ্যান্ডি বার্নহামের নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তা নিয়ে জল্পনা কল্পনা চলছে। ইতিমধ্যে মন্ত্রি হিসেবে জন হিলি চ্যান্সেলর (John Healey Chancellor of the Exchequer), এড মিলিব্যান্ড ফরেন সেক্রেটারি (Ed Miliband Foreign Secretary), শাবানা মাহমুদ হোম সেক্রেটারি (Shabana Mahmood Home Secretary) এবং লুইস হেই ফাস্ট সেক্রেটারি অব স্টেট (Louise Haigh First Secretary of State) নিযুক্ত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক চ্যান্সেলর অব দ্য একচেকার হিসেবে নিয়োগ পাওয়াকে সবচেয়ে বড় সম্মানের বিষয় উল্লেখ করেছেন জন হিলি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে লিখেছেন, একসাথে আমরা একটি নতুন অর্থনীতি তৈরি করবো, নতুন আশা তৈরি করবো এবং এই দেশের শ্রমজীবী মানুষদের উন্নতি ঘটাবো।

এড মিলিব্যান্ড ফরেন সেক্রেটারি হিসেবে ব্রিটেনের স্বার্থ ও মূল্যবোধ রক্ষায় নিবেদিত থাকার পাশাপাশি গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের জন্য লড়াই করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। ফেসবুকে এক দীর্ঘ বক্তব্যে এমনটি উল্লেখ করেন তিনি। এড এবং ডেভিড মিলিব্যান্ড প্রথম দু্ই ভাই- যারা ব্রিটেনের ফরেন সেক্রেটারি হলেন। ১৯শ শতাব্দীতে ডিউক অফ ওয়েলিংটন এবং তার ভাই রিচার্ড ওয়েলেসলি এভাবে কেবিনেটে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

শাবানা মাহমুদ তার ফেসবুকে নতুন প্রধানমন্ত্রীর সাথে নিজের ছবি দিয়ে লিখেছেন, অ্যান্ডি বার্নহামের কেবিনেটে হোম সেক্রেটারি হিসেবে থাকা একটি সম্মানের বিষয়। আমরা বড় পরিসরের সংস্কারের কাজ শুরু করছি, যাতে আমাদের রাস্তাগুলো নিরাপদ হয় এবং আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থা সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত হয়।

লুইস হেই লিখেছেন, গতকাল আমি অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে ডাউনিং স্ট্রিটে যোগ দিয়েছিলাম যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১০ নস্বরে প্রবেশ করেছিলেন এবং আশা ফিরিয়ে আনার জন্য তার পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন। ক্যাবিনেটে ফাস্ট সেক্রেটারি অব স্টেট, ল্যানকাস্টারের ডাচির চ্যান্সেলর এবং ক্যাবিনেট অফিসের মন্ত্রী হিসেবে যোগ দেওয়া সত্যিই আমার জন্য সম্মানের বিষয়।

অপরদিকে, লিবারেল ডেমোক্র্যাটের নেতা এডওয়ার্ড ডেভি যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বার্নহ্যামকে স্বাগত জানিয়ে তাকে আরও সহযোগিতামূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

ব্রিটেনের রাজনীতিতে লেবার পার্টির অধ:পতনের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী কী চমক দেখাবেন তা নিয়ে ব্যাপক বিশ্লেষন চলছে। দলীয় নেতারা প্রত্যাশা করছেন নতুন কেবিনেটে চৌকশ ব্যক্তিদের সংযুক্ত করে তিনি আশার সৃষ্টি করতে পারেন। জাতিকে তিনি নতুন দিগন্তে নিয়ে যেতে পারেন।

* সাঈদ চৌধুরী দৈনিক সময় ও মানব টিভি সম্পাদক, কবি ও কথাসাহিত্যিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *