বিশ্ববিদ্যালয়ে আর গণরুম-গেস্টরুম হতে দেওয়া হবে না : ঢাবিতে বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান

শিক্ষা সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর গণরুম হতে দেয়া হবে না। গণরুম, গেষ্টরুমের কবর হয়ে গেছে চব্বিশে; সেটা আর ফিরে আসবে না। এখন কেউ ফিরিয়ে আনতে চাইলে তাদেরই ফিরিয়ে দেয়া হবে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আর এটা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এখনো রাজনৈতিক অপচর্চামুক্ত হয়নি। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক জায়গায় অনেক কিছু করা হচ্ছে। আমরা চুপচাপ আছি বলে মনে করবেন না ঘুমিয়ে গেছি, সতর্ক করেন তিনি।

রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে বিরোধীদলীয় নেতা এ আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ জানান। তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর, ২০০৯ সালের পিলখানা ট্র্যাজেডি, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর, রাজনৈতিক সহিংসতা, গুম, বিচারিক প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিবর্গ এবং জুলাই আন্দোলনে নিহত সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে তিনি আহত ও বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দল স্বাধীন বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন চায় না, নির্বাচন কমিশন চায় না। আগের ফ্যাসিবাদী আলোকে সবকিছু রাখতে চায়। এজন্য তারা গণভোটের গণরায় মানতে চায় না। আমরা পরিস্কার বলে দিচ্ছি- এ রায় বাংলার জমিনে বাস্তবায়ন হবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, জনগণকে অপমান করার সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না। ৭০ ভাগ মানুষ যে রায় দিয়েছে, আল্লাহর মেহেরবানীতে তা অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে। আমরা সংসদে ও রাজপথে লড়াই করব। দাবি সংসদে আদায় হলে আলহামদুলিল্লাহ, না হলে রাজপথে আন্দোলন করে দাবি আদায়ে বাধ্য করা হবে।

জামায়াত আমির বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো ছাড় নাই। কোনো ধানাই পানাই মানবো না। আমাদের অনেক লোভ দেখানো হয়েছে- সব ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছি। জনগণের সাথে আমরা বেঈমানি করব না। জনগণের রায়কে অপমান করব না। গণভোটের রায় ব্যর্থ হলে জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা হারাবে এবং জনগণ সরকারকে ধিক্কার দেবে। জনগণের ধিক্কারের পাত্র বিরোধীদল হতে চায় না। এ দায়িত্ব আমরা (বিরোধীদল) নেবো না। এজন্যই আমাদের লড়াই, আমাদের সংগ্রাম।

তিনি বলেন, সরকার এখন স্বৈরশাসকের ভাষায় বিভিন্ন কথা বলছে। তাদের চেলাচামুন্ডারা ও বটবাহিনী মানুষের ইজ্জত নিয়ে খেলে। আবার সেই ফ্যাসিবাদ!

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের স্বার্থের সাথে কোনো আপস হবে না। কোনো অপশক্তির কাছে মাথাও নত করা হবে না। দেশীয়, আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক-এটা যাই হোক। যুবকদের প্রত্যাশার, আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ার জন্য বাকী জীবনকে আমরা উজার করে দেবো। যুবকদের সাথে নিয়ে লড়াই করব। যুবকদের সাথে ও সম্মুখভাগে থেকে মুক্তির আন্দোলন চলবে। এ আন্দোলন কেউ বন্ধ করতে পারবে না- প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ওয়াদা করে গেলাম, বলেন তিনি।

এসময় আমীরে জামায়াতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মো. মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন ও সহকারী সেক্রেটারি জনাব মুহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মহিউদ্দিন খানসহ ডাকসু নেতৃবৃন্দ, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্র ও মহানগরীর বিপুল সংখ্যাক নেতা-কর্মী।

ডা. শফিকুর রহমান দলীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে ডাকসু নেতাদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় ডাকসুর নেতৃবৃন্দ তাঁকে একটি শিল্পকর্ম ও পরিবেশবান্ধব গাছ উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। তিনি জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন গ্রাফিতি ও শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন ঘুরে দেখেন। পরে ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *