জামায়াত বাদে ভোট মাত্র ৫.৫৫%! কিছু ইসলামী দলের ‘আস্ফালন’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন

বাংলাদেশ সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

সাঈদ চৌধুরী:

ইসলামী দলগুলোর রাজনৈতিক শক্তি, নির্বাচনী বাস্তবতা এবং আলেম সমাজের পারস্পরিক বিভক্তি নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য দিয়েছেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তাঁর প্রশ্ন, জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দিলে ইসলামী দলগুলোর ভোটের হার যেখানে মাত্র ৫.৫৫ শতাংশ, সেখানে এত আস্ফালন কেন?

ভিডিও নিউজ লিংক: https://www.facebook.com/reel/1111907204763163

‘ওয়াজে লাখো মানুষের সমাগম, কিন্তু তারা ভোটার নয়- এখানেই আমাদের ভুল’ উল্লেখ করে আলেমদের ঐক্য ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ওলামা সামিটে’ অতিথির বক্তব্যে সাবেক উপদেষ্টান এসব কথা বলেন।

ইসলামী দলগুলোর রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে ড. খালিদ হোসেন বলেন, ওয়াজ মাহফিলে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হলেও সেই উপস্থিতিকে নির্বাচনী সমর্থন হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তিনি বলেন, “আমরা যখন ওয়াজ করি, লাখ লাখ মানুষ ওয়াজ শুনতে আসে, এরা আমার ভোটার নয়। এখানেই তো ভুল।” তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ধর্মীয় অঙ্গনে জনপ্রিয়তা থাকলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হয় না। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো ছাড়া রাজনৈতিক সাফল্য অর্জন কঠিন।

নির্বাচনী হিসাব তুলে ধরে সাবেক এই ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, বিগত নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছে ৫০ শতাংশ ভোট। জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দল মিলিয়ে ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, “জামায়াতে ইসলামী বাদ দিলে ৫.৫৫ পারসেন্ট ভোট পেয়েছি আমরা। সাধারণ জনগণের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই, আবার লম্বা লম্বা কথা বলে।”

রাজনৈতিক বাস্তবতার পাশাপাশি আলেমসমাজের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড. খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, একটি পিঁপড়াও একা হাঁটে না, এমনকি জঙ্গলের হাতিও একা থাকে না। অথচ আলেমসমাজ বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আছে। বৃহত্তর স্বার্থে এই বিভক্তি কাটিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঐক্যই শক্তিতে পরিণত হবে।

আলেমদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, কাদামাটির ওপর দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করা যায় না। তাই যেকোনো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আগে নিজেদের ভিত্তি শক্ত করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০৩১ সালের মধ্যে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে।

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের বক্তব্যে মূলত তিনটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে- আলেমসমাজের ঐক্য, সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং ধর্মীয় জনপ্রিয়তাকে বাস্তব রাজনৈতিক সমর্থনে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা। তাঁর মতে, শুধু বক্তব্য কিংবা জনসমাগম নয়, রাজনৈতিক বাস্তবতায় শক্ত অবস্থান গড়তে হলে জনসম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক ঐক্যের বিকল্প নেই।

* সাঈদ চৌধুরী দৈনিক সময় ও মানব টিভি সম্পাদক, কবি ও কথাসাহিত্যিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *