তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার অধ্যাপক ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) অনুষ্ঠিত এ বৈঠক অত্যন্ত আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের পার্লামেন্টের বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান আকিফ ইলমাজ এমপি, বাংলাদেশের গাজীপুর সিটি করপোরেশনে জামায়াত মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. হাফিজুর রহমান, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. এসএম খালিদুজ্জামান-সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সংসদীয় গণতন্ত্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা, রোহিঙ্গা সংকট এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার অধ্যাপক ড. নুমান কুরতুলমুশ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন যাত্রার জন্য অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকারও প্রশংসা করেন।
ডা. শফিকুর রহমান এমপি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ও অবস্থান সম্পর্কে তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকারকে অবহিত করেন। তিনি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরে এ সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য তুরস্কের অব্যাহত সহযোগিতা ও মানবিক ভূমিকার জন্য ডা. শফিকুর রহমান তুরস্কের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার অধ্যাপক ড. নুমান কুরতুলমুশের কাছে হস্তান্তর করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশে আরও বেশি তুর্কি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে পারস্পরিক বাণিজ্য, শিল্প, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সংসদীয়, শিক্ষাগত, প্রযুক্তিগত, শিল্প-সাহিত্য ও মানবিক কার্যক্রমে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কও আরও গভীর ও সুদৃঢ় হবে।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ ও তুরস্কের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

