জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, সিলেটের জনবান্ধব ডিসি সারওয়ার আলম যখন সর্ব মহলে প্রশংসিত, তখন সরকার তাকে প্রত্যাহার করেছে। এতে সিলেটবাসী বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। অনৈতিক কর্মকান্ডের পথ প্রশস্ত করতেই এটা করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া বিএনপি এখন আওয়ামী ফ্যাসিবাদী স্টাইলে সরকার পরিচালনা করছে।
সোমবার সিলেট মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মহানগর সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন মহানগর নায়েবে আমীর হাফিজ মিফতাহুদ্দীন ও ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, সহকারী সেক্রেটারী এডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, নগর জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল মুকিত ও এডভোকেট জামিল আহমদ রাজু প্রমূখ।
কর্মপরিষদের সভায় ফখরুল ইসলাম আরো বলেন, ডিসি সারওয়ার আলম মাদক নির্মুল, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য কল্যাণ ফান্ড গঠন, প্রবাসীদের আবাসন পরিকল্পনা, ফুটপাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অগ্রণী ভুমিকা পালনের মাধ্যমে সিলেটবাসীর হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন। সর্বশেষ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সিলেট বিএনপি শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে শাহজালালের (র.) মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনতে দানের ৩টি ডেগ সিলগালা করেন এবং সরকারী দানবাক্স স্থাপন করেন। এর প্রেক্ষিতে ডিসি সারওয়ারকে প্রত্যাহার করার ঘটনায় সিলেটবাসী বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ।
সিলেট মহানগরী আমীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন ডিসির জন্য সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করছেন। এ ধরনের একজন জনবান্ধব ও জনপ্রিয় ডিসিকে হঠাৎ করে প্রত্যাহার করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে একদিকে তার সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে, অপরদিকে ভালো কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতি পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিলো, কিন্তু সরকার মেধা ও দক্ষতার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। অতীতের মতো সরকারের দলীয় বিবেচনার পুনরাবৃত্তি দেখে জাতি আজ হতাশ। সিলেটের ডিসির ক্ষেত্রেও একই ধরণের সিদ্ধান্তে সিলেটবাসী মর্মাহত। এতে রাষ্ট্র ও সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভবিষ্যতে ডিসিরা ভালো কাজে নিরুৎসাহিত হবেন। তাই এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে ডিসি সারওয়ার আলমকে পুনরায় স্বপদে বহাল রাখার দাবী জানাচ্ছি।

