অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত ১৭ একর (প্রায় ৬০ কেদার) জায়গা জুড়ে শত শত বৃক্ষরাজি শোভিত এক্সেলসিয়র সিলেট হোটেল এন্ড রিসোর্ট (সাবেক জাকারিয়া সিটি) নিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রবাসী উদ্যোক্তারা। সিলেটের খাদিম পাড়ায় প্রতিষ্ঠিত এই পর্যটন কেন্দ্র দখল করতে নানা রকম ষড়যন্ত্র শুরু করেছে রাহাত চৌধুরী মুন্না চক্র। সরকারি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে সিলেটে তারা ভয়ংকর অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। এক পর্যায় খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শাহপরাণ থানার ওসি এই বিষয়টি তলিয়ে দেখার জন্য সালিশের আয়োজন করেন। কিন্তু আজ তারা সেখানে হাজির হয়নি।

এদিকে, এক্সেলসিয়র সিলেটের মালিক পক্ষ থেকে সিলেট-১ আসনের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বরাবরে ‘এক্সেলসিয়র সিলেট হোটেল এন্ড রিসোর্ট (প্রাক্তন জাকারিয়া সিটি) দখল মুক্তকরণ প্রসঙ্গ’ শীরোনামে লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে, ”যথাবিহীত সম্মান পূর্বক নিবেদন এই যে, আমরা প্রবাসীদের অর্থায়নে এক্সেলসিয়র সিলেট হোটেল এন্ড রিসোর্ট নামে একটি নান্দনিক পর্যটন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। আমাদের আন্তরিক সেবা এবং দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রচারের ফলে এটি সর্ব মহলে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। প্রায় এক যুগের সাধনার ফলে আমাদের ‘এক্সেলসিয়র সিলেট’ যখন ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে, ঠিক তখন একটি কুচক্রি মহল প্রবাসীদের পর্যটন কেন্দ্রটি দখলের ষঢ়যন্ত্র শুরু করেছে।

আমরা দু:খের সাথে জানাতে হচ্ছে, জনৈক রাহাত চৌধুরী মুন্না কিছুদিন আগে কতিপয় ডেভিল সন্ত্রাসীদের নিয়ে অনৈতিক ও অবৈধ ভাবে ‘এক্সেলসিয়র সিলেট’ দখল করেছে। শুধু তাই নয়, আমাদের সিকুরিটি ইনচার্জ মো: শহীদুল ইসলাম-সহ অন্যান্য কর্মচারীদের এমনিক কয়েকজন মালিকের উপর একাধিক মামলা করেছে। প্রবাসীদের কেউ যাতে তাদের সন্ত্রাসীদের ভয়ে এক্সেলসিয়র সিলেটে না যান সেজন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকি প্রদান করে আসছে। এতে করে আমরা মালিক ও কর্মচারীগণ প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে পারছিনা।

ইতিমধ্যে আমরা জানতে পারি, সন্ত্রাসীরা আমাদের রিসোর্টে মদ-গাজা এবং নারিঘটিত অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। এটা তদন্ত করে প্রশাসনের সহায়তা নেয়ার জন্য গত ৩১ জুলাই শুক্রবার বিকেল ৩ ঘটিকার সময় আমরা কয়েকজন মালিক ও কর্মচারী নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে চাইলে রাহাত চৌধুরি মুন্নার সন্ত্রাসী বাহিনী বাধা প্রদান ও আমাদের উপর আক্রমণ করে। আমরা নিরুপায় হয়ে চিৎকার করতে থাকলে স্থানীয় এলাকাবাসী আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন।

একপর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শাহপরাণ থানার ওসি মহোদয় ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আমাদের এবং এলাকাবাসীর কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শুনে তারা বিষয়টি নিয়ে আগামী শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) রাত ৮ ঘটিকায় শাহপরান থানায় সালিশে বসার তারিখ ও সময় নির্ধারণ করেন। তারা বলেছেন কোম্পানির পরিচালকদের সাথে যোগাযোগ করে প্রকৃত মালিকদের কাছে বা তাদের লোকজনের কাছে রিসোর্ট সমঝিয়ে দেওয়া হবে।

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, যেহেতু আপনি সিলেট-১ আসনের অবিভাবক, সেহেতু আপনাকে বিষয়টি অবগত করা জরুরি মনে করছি। শুক্রবারে যদি এর সুষ্ঠু সমাধান না হয় তাহলে আপনার সামগ্রীক সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ এই প্রতিষ্ঠানটি যদি আসল মালিকদের হাত ছাড়া হয়, তাহলে প্রবাসীরা বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।”

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রবাসীদের বিনিয়োগ এবং স্থাবর সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করে সামগ্রীক চিত্র তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে।

