কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছে সরকার : সুখের খামার ফাউন্ডারস নাইটে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

অর্থনীতি বাংলাদেশ সময় চিন্তা সময় সংবাদ সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

সৃজনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, শুধু চাকরি নয়, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি তরুণ সমাজ খেলাকে যেন পেশা হিসেবে নিতে পারে সে বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার।

২৫ জুলাই রাজধানীর একটি কনভেনশন হলে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত সুখের খামারের ‘ফাউন্ডারস নাইট ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এসকল কথা বলেন।

বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ৩০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা বাংলাদেশের প্রথম কমিউনিটি ভিত্তিক এগ্রো ট্যুরিজম প্রজেক্ট ‘সুখের খামার এগ্রো ভিলেজ’- এর এক হাজার ফাউন্ডারের হাতে জমির দলিল বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। ফাউন্ডারস নাইটে সুখের খামার এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম সংশ্লিষ্টদের হাতে এই দলিল বুঝিয়ে দেন। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সুখের খামারের চারজন সম্মানিত উপদেষ্টা, ৪০ সদস্যের অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্যবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে নিয়ে সুখের খামার এবং এগ্রো ট্যুরিজমের নতুন দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করছেন চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আমিনুল হক বলেন, ক্রিয়েটিভ ইকোনোমি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হচ্ছে। তাই বর্তমান সমাজে বসবাস উপযোগী করার পাশাপাশি শিক্ষিত বেকারদের কর্মসহস্থান বেবস্থা করা নিয়ে সরকার কাজ করছে। আমাদের সরকার সেভাবেই কাজ করছে। সুখের খামারের মতো প্রকল্পগুলো কিভাবে বাড়ানো যায়, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সেভাবেই আমরা কাজ করছি। দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় কর্মসস্থান সৃষ্টির জন্য ৩০ টি বিভিন্ন ট্রেনিং কার্যক্রম চালু রয়েছে। বর্তমান জেনজি জেনারেশনদের স্বাবলম্বী করার জন্য নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করায় কাজ করছে সরকার। সুখের খামারের মতো প্রকল্প দেশকে এগিয়ে নিতেই ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। এছাড়া সুখের খামারের অগ্রযাত্রায় মন্ত্রণালয় হতে সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব বলেন, ‘ফাউন্ডাররা আমাদের কাছে বিনিয়োগকারী নন- তাঁরা মালিক, প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা। তাঁদের আস্থার মর্যাদা রক্ষাই আমাদের প্রথম অঙ্গীকার।’

সুখের খামার এগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম অনুষ্ঠানে বর্তমান সময়ে এগ্রো ভিলেজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা শুধু একটি খামার বা রিসোর্ট গড়ছি না – আমরা এমন একটি মডেল গড়ছি যা ব্যবসার পাশাপাশি একটি গ্রামকে বদলে দেয়। আজকের এই আয়োজন প্রমাণ করল, হাজারো মানুষ সেই স্বপ্নে বিশ্বাস রাখেন।’

এদিকে প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি ও সম্পদমূল্য বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় সুখের খামার এগ্রো ভিলেজের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ২ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে জুলাই ২০২৬ থেকে ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা নির্ধারিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠার মাত্র দেড় বছরের মধ্যে এই মূল্যবৃদ্ধি প্রাথমিক অংশীদারদের আস্থার প্রতিদান বলে উল্লেখ করেন আয়োজকরা।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্বে প্রত্যেক ফাউন্ডিং শেয়ারহোল্ডারের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয় তাঁদের জমির দলিল, শেয়ার সনদ, চুক্তিপত্র এবং সুখের খামার ফাউন্ডেশনের লাইফটাইম মেম্বারশিপ সনদ। আয়োজকরা জানান, শরীয়াহভিত্তিক মুশারাকা পদ্ধতিতে পরিচালিত এই প্রকল্পে প্রতিটি অংশীদার সাফ কবলা দলিলে জমিসহ খামার ও রিসোর্টের আইনি মালিকানা পাচ্ছেন — যা বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগে নজিরবিহীন।

এক বছরের অগ্রগতিঃ
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত দেড় বছরে পূর্ণাঙ্গ রিসোর্ট চালুর আগেই প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছেন দুই হাজারের বেশি অতিথি, রাত্রিযাপন করেছেন নয় শতাধিক, এসেছেন সাতজন বিদেশি ভ্রমণকারী। প্রকল্পের মাধ্যমে বাগইল গ্রামে যুক্ত হয়েছে এক কোটি টাকার নতুন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান হয়েছে ৪০ জনের, ‘সুখের হাসি’ প্রকল্পে স্বাবলম্বী হয়েছেন ১০ জন নারী। সামনে রয়েছে ১০০ রুমের আন্তর্জাতিক মানের এগ্রো রিসোর্ট, জামে মসজিদ ও হাফিজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসা নির্মাণের কর্মসূচিও।

বগুড়ার কাহালুর বাগাইল গ্রামে অবস্থিত সুখের খামার এগ্রো ভিলেজ বাংলাদেশের প্রথম কমিউনিটিভিত্তিক এগ্রো ট্যুরিজম প্রজেক্ট — যেখানে একই আঙিনায় রয়েছে সমন্বিত কৃষি খামার, এগ্রো রিসোর্ট, মসজিদ-মাদ্রাসা ও ফাউন্ডেশন। প্রকল্পটি ইতিমধ্যে ৪টি জাতীয় পুরস্কার ও ৫০টিরও বেশি গণমাধ্যমের স্বীকৃতি পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *