মিশরের কায়রোতে অনুষ্ঠিত আরব লীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ এবং তাদের তাৎক্ষণিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূখণ্ড থেকে জোরপূর্বক বিতাড়নের যেকোনো চেষ্টা শক্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে জোটটি।
সোমবার (৭ জুলাই ২০২৬) আরব লীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে গৃহীত প্রস্তাবে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বৈঠকে গাজায় ইসরায়েল কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যা, অনাহার, অবরোধ, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধেরও তীব্র নিন্দা জানানো হয়। উল্লেখ্য, ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
আরব লীগের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলি হামলা ও দখলদারদের সহিংসতা থেকে ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ২০২৫ সালের শার্ম আল-শেখ শান্তি সম্মেলনে স্বাক্ষরিত গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতিটি ধাপ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান। এর মধ্যে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করা এবং গাজা পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করার বিষয়টি রয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের পুনর্নির্মাণ ও পুনরুদ্ধারের জন্য একটি আরব-ইসলামিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক, আর্থিক ও আইনি সহযোগিতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহে কায়রোতে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের প্রতিও সমর্থন জানানো হয়েছে।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের জনমিতি পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে আরব লীগ। একই সঙ্গে ইসরায়েল কর্তৃক তথাকথিত ‘স্বেচ্ছায় অভিবাসন’ বা বাস্তুচ্যুতির সব ধরনের পদক্ষেপে কঠোর আপত্তি জানানো হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপকে জাতিগত নিধন ও আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে সতর্ক করেছে জোটটি। সূত্র:আনাদোলু এজেন্সি

