সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন প্রকল্পে ৬.৩২ কোটি টাকা আত্মসাৎ

বাংলাদেশ সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর আওতাধীন ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পে প্যাকেজ বিভাজন, ই-জিপি টেন্ডারে অনিয়ম ও কাজের অস্তিত্ব ছাড়া বিল পরিশোধের মাধ্যমে ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুদক-এর প্রধান কার্যালয় থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম গণপূর্ত বিভাগ-৪ এ অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নথিপত্র সংগ্রহ করে। নথিপত্র পর্যালোচনা ও সরেজমিন তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।

দুদক-এর জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

দুদক জানায়, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের মূলধন অংশের ‘অনাবাসিক ভবন’ খাতে সিসিজিপি অনুমোদিত একমাত্র ডব্লিউ-১ প্যাকেজের কার্যাদেশ ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর ১ হাজার ৫৫৭ কোটি ৪ লাখ টাকা মূল্যে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে (এনডিইএল) দেওয়া হয়।

তবে ডিপিপি, আরডিপিপি বা হোপের অনুমোদন ছাড়াই ২০২৩-২৪ অর্থবছরে একই খাতে আরও আটটি প্যাকেজ সৃষ্টি করে ই-জিপির মাধ্যমে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এসব প্যাকেজের বিপরীতে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়।

এনফোর্সমেন্ট টিমের সরেজমিন তদন্তে আটটি প্যাকেজের মধ্যে চারটির— ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর কাজের কোনো ভৌত অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এসব কাজের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্র বা পরিমাপ বইও পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর প্যাকেজের কাজের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও সেগুলো মূলত এনডিইএল কর্তৃক সম্পাদিত হয়েছে বলে নির্বাহী প্রকৌশলী, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদক-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মূল ডব্লিউ-১ প্যাকেজের কাজ বিধিবহির্ভূতভাবে আটটি প্যাকেজে বিভাজন করে ই-জিপির মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান ও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজের বাস্তব অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও বিল পরিশোধের মাধ্যমে সরকারি অর্থের ক্ষতিসাধন ও আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

এ ঘটনায় তৎকালীন ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে মূলত দায়ী করা হয়েছে বলে এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার বক্তব্য বা ব্যাখ্যা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তার দায়-দায়িত্ব, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ ও অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট চিত্র উদঘাটনে বিস্তারিত অনুসন্ধানের সুপারিশসহ এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদন দাখিল করবে দুদক। বাসস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *