প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দল সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাকে মিথ্যা দাবি করে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ প্রকাশের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
ভিডিও নিউজ লিংক: https://www.facebook.com/reel/1922141265420940
শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) সকালে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ চ্যালেঞ্জ জানান।
মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলীর সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদসহ স্থানীয় নেতারা।

জন্মভূমি মৌলভীবাজারে ডা. শফিকুর রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ জেলায় এটিই ছিল তাঁর প্রথম সফর।
এর আগে সকাল ৮টায় সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীরমো. ফখরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমীর ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলী, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শাহজাহান আলী, সিলেট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. জয়নাল আবেদীন, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আজিজ আহমদ কিবরিয়া এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের মৌলভীবাজার শহর শাখার সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

মতবিনিময় সভায় সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপির একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডারকে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একজন দলীয় ব্যক্তিকে এ পদে কেন নিয়োগ দিতে হবে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নিজ এলাকায় গিয়ে বলেছেন, যেসব এলাকায় বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হবেন না, সেসব এলাকায় সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হবে না। সংসদে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তির এমন বক্তব্যকে লজ্জাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আগেভাগেই জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে। ভয়ভীতি ও দলীয় প্রভাবের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে জামায়াতের আমীর বলেন, “নির্বাচনের আগে আমরা অবশ্যই নির্বাচনের পথ পরিষ্কার করার চেষ্টা করব। আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি জানাব। যখন নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে, তখন আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। আমরা জনগণের অধিকার নিয়ে লড়তে চাই। আমরা চাই, জনগণ যাঁকে পছন্দ করবেন, তিনিই ক্ষমতায় যাবেন।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পেয়েছি, যিনি সব মন্ত্রণালয়ে সার্ভিস দেন। অথচ তাঁর প্রাথমিক দায়িত্ব হলো নিজের মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তদারকি করা। কিন্তু তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি, সমাজে শৃঙ্খলাও ফিরিয়ে আনতে পারেননি। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি নেই।”
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো বলে দাবি করছেন। তবে এই ‘আগের চেয়ে ভালো’ বলার মাপকাঠি কী, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াতের আমীর বলেন, “সংবাদপত্র সমাজের আয়না। এই আয়নার মাধ্যমেই সমাজের দোষ-ত্রুটি ফুটে ওঠে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালে সংবাদমাধ্যমের ওপর আঘাত এসেছিল, আঘাত এসেছিল রাজনীতির ওপরও। বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সে সময় সংবাদমাধ্যমকে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। চারটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমের অস্তিত্ব রাখা হয়নি।”

