অবশেষে হাইকোর্টে জামিন পেলেন প্রবাসীদের বন্ধু বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান

প্রবাসী বাংলাদেশ সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

সাঈদ চৌধুরী :

মুক্তির দাবিতে দেশে-বিদেশে প্রতিবাদ, জামিনে স্বস্তি প্রবাসীদের মধ্যে

হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবাসীদের অধিকার আদায়ের পক্ষে সোচ্চার কণ্ঠ মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে একই মামলায় ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫ তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করেছিলেন। গত ২৬ অক্টোবর বিচারক মো. সাদেকীন হাবিব বাপ্পী জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁর আইনজীবীরা। অবশেষে উচ্চ আদালতের জামিন আদেশে তাঁর পরিবার, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য প্রবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে দেশে-বিদেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। প্রবাসীদের অভিযোগ, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের হয়রানি, লাগেজ ও মালামাল চুরি এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করেছিলেন। বিশেষ করে প্রবাসী যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হয়রানির প্রতিবাদ করায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

তাঁর বিরুদ্ধে বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে। তবে এসব অভিযোগকে প্রবাসীরা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, বিমানবন্দরে অনিয়ম ও প্রবাসীদের প্রতি অবহেলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠন ও কমিউনিটির উদ্যোগে তাঁর মুক্তির দাবি ওঠে।

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনসহ ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আমেরিকা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রবাসীদের অনেকেই মনে করেন, যাঁরা বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন, তাঁদের অধিকার ও সম্মান রক্ষায় যাঁরা কথা বলেন, তাঁদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

প্রবাসীদের অভিযোগ, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী হয়রানি, লাগেজ নিয়ে ভোগান্তি, মালামাল হারানো এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব সমস্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করার ঘটনা তাঁদের আরও ক্ষুব্ধ করেছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান পরিচিত একজন প্রতিবাদী কণ্ঠ হিসেবে। বিশেষ করে বিমানবন্দরে প্রবাসীদের নানা সমস্যা, হয়রানি ও ভোগান্তির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান তাঁকে প্রবাসী অন্তপ্রাণ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি এনে দিয়েছে।

প্রবাসীদের মতে, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও দেশে আসা-যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে তাঁদের অনেককে নানা ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। এ অবস্থায় তাঁদের পক্ষে কথা বলার মতো মানুষের সংখ্যা সীমিত। সে কারণে আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারকে তাঁরা শুধু একজন ব্যক্তির গ্রেপ্তার হিসেবে দেখেননি; বরং প্রবাসীদের অধিকার ও ন্যায্য দাবির পক্ষে সোচ্চার কণ্ঠকে স্তব্ধ করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেছেন।

হাইকোর্টের জামিন আদেশে আপাতত স্বস্তি ফিরে এলেও প্রবাসীদের প্রত্যাশা, বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি, লাগেজ ও মালামাল চুরি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে।

তাঁদের দাবি, বিমানবন্দরকে প্রবাসীবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনো যাত্রী যেন হয়রানি, অপমান কিংবা মালামাল হারানোর আতঙ্ক নিয়ে দেশে আসা-যাওয়া করতে বাধ্য না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্যের জামিনের মধ্য দিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন অধ্যায় শুরু হলো। এক্ষেত্র জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের প্রতিও প্রবাসীদের ভালোবাসা প্রতিফলন ঘটেছে আজকের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে ওঠা বিমানবন্দরের অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবিও নতুন করে সামনে এসেছে।

প্রবাসীদের প্রত্যাশা, দেশের জন্য যাঁরা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন, তাঁদের সম্মান, নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবার আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

* সাঈদ চৌধুরী দৈনিক সময় ও মানব টিভি সম্পাদক, কবি ও কথাসাহিত্যিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *