ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিরপুরে নাশকতা চেষ্টার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মিরপুর-১০ ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিবির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান।
ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, গত কয়েক দিন ধরে পোশাকশ্রমিকেরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। শ্রমিকদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা, সহিংসতা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
তাঁর দাবি, সাধারণ পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মী বিশৃঙ্খলা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করছেন। আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে তাঁরা শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে এসব কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে ডিবি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. কামাল গাজী (৩২), মো. ওলিউল্লাহ অনিক (২০), আলিফ হোসেন ইমন (২৬), মো. নাহিদ হাসান (১৮), আরিফ আকন্দ (২৯), জায়েদ করিম রিয়াজ (২৪), মো. রমজান সরকার (১৮), মোয়াজ্জেম শাহরিয়া নিয়াজ, জুবায়েদ ইসলাম জিসান (২২) এবং মো. মাহিম মোল্লা (১৯)।
এদিকে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তাঁদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজবুল ইসলামের নাম উল্লেখযোগ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিওতে তাঁকে শ্রমিকদের আন্দোলনে অংশ নিতে এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
ডিবির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান আরও জানান, নাশকতার পরিকল্পনা ও চেষ্টার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন— এমন প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতির তথ্য তাঁদের কাছে রয়েছে। তাঁদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত করার কাজ চলছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

