নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শনিবার দিল্লি পুলিশ আটক করেছে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আম আদমি পার্টির নেতা দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল-সহ একাধিক বিরোধী নেতাকে। বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে পৌঁছনো আটকাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড ও কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচ জন সাংসদকে দক্ষিণ অ্যাভিনিউ এলাকায় বিক্ষোভের পর আটক করা হয়। পরে তাঁদের দ্বারকা উত্তর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁদের প্রায় দু’ঘণ্টা প্রিজন ভ্যানে ঘুরিয়েছে। এই পদক্ষেপকে তিনি ‘অপহরণ’ বলে বর্ণনা করেন। থানায় বসে ভিডিও বার্তায় মমতা জানান, তিনি দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়েন, শামিরুল ইসলাম ও দলের অন্য নেতাদের সঙ্গে ধর্নায় বসেছেন। প্রতিবাদ চলাকালীন জল না খাওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও তিনি জানান। পাশাপাশি, কলকাতায় ফেরার পরিকল্পনা স্থগিত করে সোমবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র মিছিলে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।
এদিকে আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও শনিবার তাঁর লোধি এস্টেটের বাসভবনের বাইরে আটক করা হয় বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তিনি যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। কেরলের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন-সহ বামপন্থী শিবিরের নেতারাও পুলিশের পদক্ষেপের মুখে পড়েন।
বিক্ষোভের মূল দাবি, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR)-এ বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে বিরোধী দলগুলি প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে বিক্ষোভ ঠেকাতে দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। কয়েকটি মেট্রো স্টেশন ও বাজার বন্ধ রাখা এবং কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করার কথাও জানিয়েছে সংবাদ সংস্থাটি।
১০ অক্টোবরের সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারকা উত্তর থানায় ধর্না চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে তিনি ও তাঁর সঙ্গে আটক নেতারা ঠিক কখন মুক্তি পাবেন, দিল্লি পুলিশের তরফে তাঁদের আটক রাখার বিষয়ে কী আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে- এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য, হালনাগাদ সরকারি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সুত্র: বিবিসি ও রয়টার্স

