খোলা পানিতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় এবং সাঁতার শেখার গুরুত্ব নিয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে পপলার বাথসে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ জল নিরাপত্তা কর্মসূচি। টাওয়ার হ্যামলেটসের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গত বুধবার হয়েছে বিশেষ জল নিরাপত্তা ও পানিতে ডুবে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ বিষয়ক এই সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান।
শিক্ষার্থীদের উন্মুক্ত জলাশয় ও খোলা পানিতে থাকা নানা অদৃশ্য ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা ‘কোল্ড-ওয়াটার শক’ বা ঠান্ডা পানিতে আকস্মিক শরীরের প্রতিক্রিয়া, প্রবল স্রোত এবং পানির নিচে থাকা বিপজ্জনক বস্তুসহ বিভিন্ন ঝুঁকি তুলে ধরেন।
এ সময় কীভাবে পানির আশপাশে নিজের এবং অন্যদের নিরাপদ রাখা যায়, কেউ পানিতে বিপদে পড়লে কীভাবে জরুরি সহায়তা চাইতে হয় এবং সাঁতার শেখা কেন একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতা- এসব বিষয়েও শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পরামর্শ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে জল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ সুইম ইংল্যান্ডের অ্যাডাম গোয়মার, মেরিন পুলিশের র্যাচেল বেকফোর্ড ও নিকি প্রিন্স এবং লন্ডন ফায়ার ব্রিগেডের টিম কাটবিল অংশ নেন। তারা শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সমুদ্রসৈকত, নদী, খাল, হ্রদ ও সুইমিং পুলে সাঁতারের সঙ্গে জড়িত সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো তুলে ধরেন।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের অ্যাকোয়াটিক্স ম্যানেজার জ্যাকি আয়রেসের নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিটি ‘বি ওয়েল’(Be Well) উদ্যোগের বৃহত্তর জল নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ।
জাতীয় পর্যায়ে জল নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর সময়েই এ আয়োজন করা হলো। উষ্ণ আবহাওয়ায় খোলা পানির স্থানগুলোতে মানুষের উপস্থিতি বাড়ার পাশাপাশি শিশু ও তরুণদের পানিতে দুর্ঘটনার ঘটনাগুলো জল নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় শেখানোর প্রয়োজনীয়তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

‘বি ওয়েল’ উদ্যোগের মাধ্যমে স্কুল ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে শিশু ও তরুণদের সাঁতার শেখা, প্রয়োজনীয় জল নিরাপত্তা দক্ষতা অর্জন এবং পানির সঙ্গে নিরাপদ সম্পর্ক গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, সম্প্রতি পানিসংক্রান্ত একটি মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছিল। এ ধরনের ঘটনা একটি পরিবার ও বৃহত্তর কমিউনিটির ওপর কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, তা তিনি সরাসরি দেখেছেন।
তিনি বলেন, “এ কারণেই আমি টাওয়ার হ্যামলেটসে জল নিরাপত্তাকে সবসময় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছি। নদী, ডক, খাল ও জলাধারবেষ্টিত একটি বারায় আমাদের বাসিন্দা ও তরুণদের জন্য পানির আশপাশে কীভাবে নিরাপদ থাকতে হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
মেয়র আরও বলেন, “সাঁতার শেখা, পানির প্রতি আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং পানির সঙ্গে জড়িত ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতা, যা জীবন রক্ষায় সহায়তা করতে পারে। আরও বেশি শিশুকে এসব দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যতের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা করতে এবং আমাদের বাসিন্দাদের নিরাপদ রাখতে পারি।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের লেজার, কালচার অ্যান্ড ট্যুরিজমের ক্যাবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর মিনারা খাতুন। তিনি বলেন, “এই সচেতনতামূলক আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো শিশুদের পানির ভেতরে ও আশপাশে নিরাপদ থাকার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, আত্মবিশ্বাস ও উৎসাহ দেওয়া।”
তিনি আরও বলেন, “জল নিরাপত্তা, জরুরি সেবা এবং সাঁতার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিশেষজ্ঞকে একসঙ্গে নিয়ে আসার মাধ্যমে আমরা তরুণদের পানির ঝুঁকি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে এবং বিপদের মুখে পড়লে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে, তা বুঝতে সহায়তা করতে পারি।”
কাউন্সিলর মিনারা খাতুন সতর্ক করে বলেন, “খোলা পানি অনেক সময় অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক হতে পারে। ঠান্ডা পানির আকস্মিক ধাক্কা, প্রবল স্রোত এবং পানির নিচে থাকা বিভিন্ন বস্তু আত্মবিশ্বাসী সাঁতারুদের জন্যও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এ বিষয়ে শিক্ষা ও সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি বলেন, “‘বি ওয়েল’-এর মাধ্যমে আমরা আরও বেশি শিশুকে সাঁতার শেখানো, পানির প্রতি আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং প্রয়োজনীয় জল নিরাপত্তা দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্কুল ও আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা নিশ্চিত করতে চাই, তরুণরা যেন পানিকে নিরাপদভাবে উপভোগ করার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সহায়তা পায়।”

