মমতাময়ী মায়ের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে এক সন্তানের স্মৃতিচারণ : আম্মা, আমি আসছি!

প্রবন্ধ-কলাম ভ্রমণ-স্মৃতিকথা সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

আকবর হোসেন :

না, এভাবে আর কাউকে কখনো বলতে পারব না— “আম্মা, আমি আসছি!”

কথাটি খুবই সহজ, অথচ এর মধ্যে কত আবেগ, কত ভালোবাসা, কত আকুলতা যে লুকিয়ে ছিল! একসময় লন্ডন থেকে দেশে যাওয়ার আগে মাকে ফোন করে বলতাম, “আম্মা, আমি আসছি।”

মা অপেক্ষায় থাকতেন। আমার ফেরার খবরে তাঁর কণ্ঠে আনন্দের ঝিলিক ফুটে উঠত। আর আজ সেই কথাটি বলার মানুষটিই পৃথিবীতে নেই!

গত বছরের আগস্ট মাসে দেশে যাওয়ার কথা ছিল। মায়ের সঙ্গে কত কথা জমে ছিল, কত গল্প, হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, স্বপ্ন আর স্মৃতির কথা!

ভেবেছিলাম, দেশে গিয়ে মায়ের পাশে বসব, প্রাণভরে কথা বলব, পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ করব। মায়ের সেবা করব, তাঁর স্নেহের পরশ নেব, তাঁর শরীরের সেই চিরচেনা ঘ্রাণে মন ভরিয়ে নেব। কিন্তু কিছুই আর হলো না। নিয়তির অমোঘ বিধানে মা আমাদের ছেড়ে চিরবিদায় নিলেন। এখন আর কার কাছে বলব, “আম্মা, দুহাত তুলে আমার জন্য দোয়া করো!”

আজ সেই চিরবিদায়ের এক বছর পূর্ণ হলো।

যে ফোনকল বদলে দিল সবকিছু। ৫ নভেম্বর ২০২৫। সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে মোবাইল ফোন বেজে উঠল। বড় ভাতিজা হাসানের ফোন, সাউদাম্পটন থেকে। ফোনের ওপাশে তার কণ্ঠে অঝোরে কান্না।

এ সময় দেশ থেকে ফোন এলে বুকটা দুরুদুরু করে ওঠে— কী জানি কী খবর! কিন্তু হাসান তো এখানেই, ইংল্যান্ডে!

হাসান জানাল, আম্মা আর নেই! ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পৃথিবীর সবচেয়ে কষ্টের সংবাদ— নিজের গর্ভধারিণী মায়ের মৃত্যুসংবাদ! সেদিন শুনতে হলো তার কাছ থেকেই। কান্নায় ভেঙে পড়লাম। কী করব, কীভাবে নিজেকে সামলাব, কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। এরই মধ্যে একের পর এক ফোন ও মোবাইল বার্তা আসতে লাগল। প্রথমে খবরটি বিশ্বাস করতেই খুব কষ্ট হচ্ছিল। প্রায় আধা ঘণ্টা লেগে গেল নির্মম বাস্তবতাকে মেনে নিতে—আমার মা আর নেই!

বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা হলো। পরিবারের আরও অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। জানিয়ে দিলাম, আমি দেশে যাব, আম্মার জানাজায় শরিক হব।

সিদ্ধান্ত হলো, পরদিন ৬ নভেম্বর আসরের নামাজের পর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। আমার দেশে পৌঁছাতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন ছিল। পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনকে খবর দেওয়া এবং জানাজার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল। তাই পরদিন জানাজার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

শুরু হলো ফ্লাইট খোঁজাখুঁজি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে সরাসরি সিলেট যাওয়া গেলে সবচেয়ে ভালো হতো, কিন্তু টিকিট পাওয়া গেল না। শেষ পর্যন্ত কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট পাওয়া গেল। বিকেল তিনটার দিকে ফ্লাইট। দেড়টার মধ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে হবে। ছোট ভাই আফজাল আমার সঙ্গে যাবে। বন্ধু পল্লব ঢাকা থেকে সিলেটের টিকিটের ব্যবস্থা করে দিল। আশ্চর্যজনক ভাবে, কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই সবকিছু দ্রুত গুছিয়ে গেল।

আমার ছোট বোন সুমি সারিতে থাকে। দেশে যাওয়ার আগে তাকে একবার দেখতে গেলাম। ভেবেছিলাম, একটু সান্ত্বনা দিয়ে আসব। কিন্তু শোকের সেই মুহূর্তে কে কাকে সান্ত্বনা দেয়! নিজেকেই তো সামলাতে পারছিলাম না।

সহধর্মিণী আমাকে হিথরো বিমানবন্দরে পৌঁছে দিলেন। যাওয়ার আগে মেয়েদের আদর করে বিদায় নিলাম। নায়লা বারবার আমার কাছে এসে জড়িয়ে ধরছিল। মাকে হারানোর সেই অসহনীয় মুহূর্তে মেয়ের আলিঙ্গনে যেন কিছুটা সান্ত্বনা খুঁজে পেলাম।

লন্ডন থেকে রানীগঞ্জ: মায়ের কাছে শেষযাত্রা

লন্ডন–দোহা–ঢাকা–সিলেট–রানীগঞ্জ। কোনো ধরনের বিলম্ব বা বিঘ্ন ছাড়াই নির্ধারিত সময়ের আগেই ঢাকা পৌঁছলাম। কাতার এয়ারওয়েজের বিনা মূল্যের ইন্টারনেট সুবিধার মাধ্যমে পরিবারের সবার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে পেরেছিলাম। বিশেষ করে বাড়িতে যাঁরা আমাদের অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁদের কাছে আকাশপথে আমাদের অবস্থান ও যাত্রার খবর নিয়মিত পৌঁছে দিতে পারছিলাম।

যাত্রাপথে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ করলাম। বিমানবন্দরে চেক-ইন থেকে শুরু করে বিমানে পাশের আসনে বসা সহযাত্রী ও পরিচিত-অপরিচিত মানুষ— সবার আচরণেই কেমন যেন এক ধরনের সহানুভূতি ও আন্তরিকতা অনুভব করলাম। হয়তো আমার শোকাহত চেহারা কিংবা পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাঁরা সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাঁদের সেই মানবিক আচরণ আজও মনে আছে।

সিলেট বিমানবন্দরে আমার শিলু মামা (লন্ডনপ্রবাসী, তখন ছুটিতে দেশে ছিলেন) আমাদের গ্রহণ করলেন। এরপর বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু। তখন বেলা প্রায় একটা।

গাড়ি চলছে, আর আমার মনজুড়ে শুধুই মায়ের স্মৃতি! লন্ডন থেকে ঢাকা, তারপর সিলেট হয়ে বাড়ির পথে দীর্ঘ যাত্রায় কত স্মৃতি যে মনে পড়ল! ছোটবেলার সুখের দিনগুলো, আনন্দের মুহূর্ত, জীবনের দুঃখ-কষ্ট, মায়ের স্নেহ-মমতা— সবকিছু একের পর এক চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। কখনো চোখ ভিজে উঠছিল, কখনো নিজেকেই নিজে সান্ত্বনা দিচ্ছিলাম। আর প্রাণভরে মায়ের জন্য দোয়া করছিলাম।

সারা বাড়ি তখন লোকে লোকারণ্য। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী সবাই আমাদের অপেক্ষায় ছিলেন। সাড়ে তিনটার আগেই বাড়িতে পৌঁছলাম।

আমাদের উঠোনে দাঁড়িয়ে আছে একটি বড় অ্যাম্বুলেন্স। তার ভেতরেই শুয়ে আছেন আমার আম্মা। গোসল করিয়ে সারা রাত তাঁকে সেখানে রাখা হয়েছে। কাচের ওপাশ দিয়ে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। কী শান্ত, কী স্নিগ্ধ সেই মুখ! মনে হচ্ছিল, গভীর প্রশান্তিতে ঘুমিয়ে আছেন। কিন্তু এ যে চিরঘুম! এই ঘুম আর কখনো ভাঙবে না।

মনের ভেতর তখন কত কথা, কত আকুতি! কত দিন পর মায়ের কাছে ফিরলাম, অথচ মা আর আমাকে দেখে হাসবেন না, আগের মতো কাছে টেনে নেবেন না, বলবেন না—“আমার আকবর আইছে!”

আসরের নামাজের পর আমার বাড়ি ও মার্কেটের পাশে রানীগঞ্জ বাজার জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আম্মার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হলো। আমার জীবনে এই প্রথম জানাজার ইমামতি করার সুযোগ হলো। উপস্থিত মুসল্লি ও এলাকাবাসীর উদ্দেশে কিছু কথা বলারও সুযোগ পেয়েছিলাম।

একজন নারীর জানাজায় এত বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি আমার জানামতে আগে কখনো দেখিনি। আম্মা ছিলেন একজন শহীদের স্ত্রী। আমার বাবা, শহীদ আকলু মিয়া, ১৯৭১ সালের ১ সেপ্টেম্বর রানীগঞ্জ বাজার গণহত্যায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছিলেন।

বাবাকে হারিয়ে আম্মা আমাদের মানুষ করতে জীবনের কত যে কষ্ট সহ্য করেছেন! অসংখ্য প্রতিকূলতার মধ্যেও ধৈর্য ধারণ করেছেন, সবর করেছেন। একদিকে স্বামী হারানোর বেদনা, অন্যদিকে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার কঠিন দায়িত্ব। সবকিছুই তিনি অসীম সাহস ও ধৈর্যের সঙ্গে সামলেছেন। আমাদের আগলে রেখেছেন, বড় করেছেন, মানুষের মতো মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ, শত মুসিবতের মধ্যেও আমরা বেড়ে উঠেছি।

আমাদের জীবনে মায়ের আদর্শ, তাঁর শিক্ষা, ভালোবাসা এবং ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁর মায়ার বন্ধন আজও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। ইনশাআল্লাহ, এই বন্ধন ও শিক্ষা আমাদের জীবনে আজীবন বেঁচে থাকবে।

কিন্তু আম্মা আর ফিরে আসবেন না। এটাই জীবনের চূড়ান্ত বাস্তবতা। আর কোনো দিন কাউকে ‘আম্মা’ বলে ডাকতে পারব না। বলতে পারব না, “আম্মা, তোমার জন্য লন্ডন থেকে কী কী জিনিস নিয়ে আসব?”

আম্মাও আর কখনো বলবেন না, “আমার আকবর মিয়া আইছে!” গত বছর আম্মাকে বলেছিলাম, এবার তোমার জন্য সৌদি আরব থেকে অনেক কিছু নিয়ে আসব। খেজুর, জমজমের পানি— সবই থাকবে। এভাবেই ডিসেম্বর মাসে ওমরাহ করে দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা ও টিকিট করা ছিল। কিন্তু তার আগেই মায়ের ডাক এলো। নভেম্বর মাসেই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।

ভাবতেই বুকের ভেতরটা হাহাকার করে ওঠে। বারবার মনে হয়, কেন যে গত বছরের আগস্ট মাসে দেশে গেলাম না! কেন মায়ের সঙ্গে সেই কথাগুলো বলা হলো না! কত কথা জমে ছিল, কত গল্প বাকি ছিল, কত স্মৃতি ভাগাভাগি করার ছিল! হয়তো তখন বুঝতে পারিনি, সময় এত দ্রুত ফুরিয়ে যাবে। ভাবিনি, মায়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগটি আর কখনো ফিরে আসবে না।

মানুষের জীবনে কত পরিকল্পনা থাকে, কত আয়োজন থাকে। আমরা ভাবি, সময় আছে, পরে যাব, পরে কথা বলব, পরে মায়ের পাশে বসব। কিন্তু কে জানে, সেই ‘পরে’ আর কখনো আসবে কি না!

আম্মার কথা আর কত লিখব! তিনি রানীর বেশে এসেছিলেন রানীগঞ্জে। আর তাঁর শেষ বিদায়ও আমাদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। যেন সত্যিই একজন রানী বিদায় নিলেন! স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর হৃদয় উজাড় করা ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি শেষযাত্রায় পাড়ি জমালেন।

মায়ের মৃত্যুসংবাদ শুনে অসংখ্য মানুষ আমাদের বাড়িতে এসেছেন। দোয়া করেছেন, সমবেদনা জানিয়েছেন, শোকের মুহূর্তে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের ভালোবাসা ও সহমর্মিতা আমাদের শোক কিছুটা হলেও লাঘব করেছে। সবার প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

আমরা গর্বিত, এমন একজন আদর্শ মায়ের গর্ভে আমাদের জন্ম হয়েছে। আম্মা, তুমি সত্যিই সার্থক একজন নারী। তুমি ভাগ্যবতী। জীবনের কঠিন পরীক্ষায় তুমি সবর করেছ, সন্তানদের মানুষ করেছ, ভালোবাসা দিয়ে পরিবারকে আগলে রেখেছ। আল্লাহ তাআলা যেন তোমার জীবনের সকল সৎকর্মের উত্তম প্রতিদান দান করেন।

আমরা তোমার সন্তান। তোমার জন্য দোয়া করছি, ভালো কাজ করার চেষ্টা করছি। আল্লাহ যেন আমাদের নেক আমল ও সদকায়ে জারিয়ার মাধ্যমে তোমার পরকালীন জীবনকে কল্যাণময় করেন।

আম্মার মুখে প্রায়ই যে কথাগুলো উচ্চারিত হতো, সেই কথাগুলো দিয়েই আজকের স্মৃতিচারণ শেষ করতে চাই। “ইয়া আল্লাহ! তোমার দরবারে সবর আর শুকরিয়া।”

কী অসাধারণ একটি উপলব্ধি! জীবনের সব চাওয়া-পাওয়া, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, সুখ-দুঃখের মাঝে এই দুটি শব্দের গুরুত্ব অপরিসীম। কখনো সবর আমাদের কঠিন সময়ে শক্তি জোগায়, কখনো শুকরিয়া আমাদের প্রাপ্তির আনন্দ উপলব্ধি করতে শেখায়। জীবনের কঠিন বাস্তবতায় এই দুটি শব্দই যেন সান্ত্বনা ও আশার আলো হয়ে পাশে দাঁড়ায়।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ، إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ

অর্থ: মুমিনের ব্যাপারটি কতই না বিস্ময়কর! তার প্রতিটি অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর। আর এটি মুমিন ছাড়া অন্য কারও জন্য নয়। তার জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য এলে সে শুকরিয়া আদায় করে, আর তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আবার জীবনে বিপদ-আপদ এলে সে সবর করে, আর সেটাও তার জন্য কল্যাণকর হয়। সহিহ মুসলিম।

আমরা প্রাণভরে আমাদের মা-বাবার জন্য দোয়া করি। رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا

রব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানী সাগীরা। অর্থ: হে আমার রব! তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন, যেমন তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।

হে আল্লাহ! আমাদের মা-বাবা সহ সকল মুমিন নারী-পুরুষকে ক্ষমা করে দিন। তাঁদের কবরকে জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান বানিয়ে দিন। তাঁদের কবরের অন্ধকারকে নূরের আলোয় আলোকিত করে দিন। তাঁদের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিন। তাঁদের নেক আমলগুলো কবুল করুন এবং জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন।

হে আল্লাহ! আমাদের এমন নেক সন্তান হিসেবে কবুল করুন, যাদের দোয়া ও নেক আমল মা-বাবার পরকালীন জীবনে কল্যাণ বয়ে আনে।

আম্মা, তুমি নেই, কিন্তু তোমার স্মৃতি আছে, তোমার শিক্ষা আছে, তোমার ভালোবাসা আছে। তোমার সেই স্নেহমাখা ডাক, তোমার দোয়া, তোমার হাসিমাখা মুখ— সবকিছু আমাদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে।

তুমি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু আমাদের হৃদয়ের প্রতিটি অনুভূতিতে তুমি আছ। তোমার স্মৃতি আমাদের পথ দেখাবে, তোমার শিক্ষা আমাদের জীবন গড়তে সাহায্য করবে। তুমি আমাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।

আম্মা, আমি আর বলতে পারব না— “আম্মা, আমি আসছি!” কিন্তু প্রতিটি দোয়ায়, প্রতিটি স্মৃতিতে, প্রতিটি ভালো কাজে তোমার কাছে ফিরে আসব। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সবরকারী ও শুকরিয়া আদায়কারী বান্দা হিসেবে কবুল করুন। আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।

আকবর হোসেন সাংবাদিক-গীতিকার, ফাইন্যান্স ম্যানেজার- হালাল ফুড অথরিটি, ইউকে | ৫ নভেম্বর ২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *