সিলেটে পূর্বনির্ধারিত সফরে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অসুস্থ হওয়ার পর মন্ত্রীকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিলেট নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
শুক্রবার সকালে নিজের নির্বাচনী এলাকা সিলেট-৪ আসনের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেন আরিফুল হক চৌধুরী। দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনকালে হঠাৎ তাঁর বুকে ব্যথা ও শরীরে ঝিমঝিম অনুভূত হয়। এ সময় তাঁর সফরসঙ্গীরা দ্রুত তাঁকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া মন্ত্রীর অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রীর শারীরিক সমস্যার কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসকেরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। নার্ভের সমস্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁর এমআরআই পরীক্ষা করা হয়েছে বলে পারিবারিক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে।
এ ছাড়া বুকে ব্যথা ও শরীরে ঝিমঝিম অনুভূত হওয়ার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। কার্ডিওলজি ও নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে স্থানীয় সুত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
পারিবারিক ঘনিষ্ঠজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তির পর মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তিনি আগের তুলনায় ভালো বোধ করছেন। চিকিৎসকেরা তাঁকে পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে মন্ত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে তাঁকে দেখতে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে যান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সময় তিনি আরিফুল হক চৌধুরীর সহধর্মিণী সামা হক চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রীর অসুস্থতার কারণে কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় তাঁর পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার এসব এলাকায় তাঁর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় সব কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেবেন মন্ত্রীর চিকিৎসা সিলেটেই চলবে, নাকি তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তির পর মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
মন্ত্রীর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন অনেকে।

