সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার বাংলাদেশ আজাদি পার্টির আহ্বায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. হাসিনুর রহমান এই অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ করেছে।
আজাদি পার্টির আহ্বায়ক বলেন, ৫ আগস্ট পর্যন্ত বহু লোককে হত্যা করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে; কোনো দিন প্রতিবাদ করেননি সাবেক এই দুই রাষ্ট্রপতি। এসব অপরাধে তাদের মৌন সম্মতি ছিল।
এসময় আজাদি পার্টির প্রধান সংগঠক মুন্সি বোরহান মাহমুদ বলেন, সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও সাহাবুদ্দিন পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা গণহত্যা, জুডিশিয়াল কিলিং, গুম, খুন, আয়নাঘর সহ বাংলাদেশে যতগুলো গণহত্যা হয়েছে, যতগুলো নারকীয় ঘটনা ঘটেছে- সব ঘটনার সময় এই দুজন পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রের প্রধান ছিলেন। তারা ফ্যাসিস্ট সরকারকে সমর্থন এবং সব ধরনের নিরাপত্তা দিয়েছেন। অন্যায়ের কোন প্রতিবাদ করেননি বরং ক্ষমতার অংশ হয়ে সুবিধা ভোগ করেছেন। তারা এর দায় এড়াতে পারেন না।
এদিকে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস বলেছেন, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে গত বছরের ১৮ জানুয়ারি রাতে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে গুম করা হয়। পরদিন ১৯ জানুয়ারি বাংলামোটর এলাকায় তাকে ফেলে রেখে যায়। এই সাহাবুদ্দিন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘একান্ত সহযোগী’ ছিলেন।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র–জনতার ওপর গুলিবর্ষণ, অমানবিক নির্যাতন, খুন, গুমের হুকুমদাতা হিসেবে সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্ত করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

