‘বড় ধরনের যুদ্ধাভিযান’ শুরুর ঘোষণা ট্রাম্পের, হামলার পর তেহরানের আকাশে ধোঁয়া

আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্য সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরুর পরপরই ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশে বিস্ফোরণের ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। তেহরানের বাইরে আরো কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে ইরানি সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে “বড় ধরনের যুদ্ধাভিযান” চালিয়েছে।

নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ভিডিও বার্তায় তিনি এটি নিশ্চিত করেছেন। “আমরা বারবার একটি চুক্তি চেয়েছি। আমরা চেষ্টা করেছি,” বলেছেন তিনি। তিনি বলেন, “আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা জ্বালিয়ে দিতে যাচ্ছি। এটা পুরোপুরি ধ্বংস করা হবে”।

ইরানের কয়েকটি শহরে হামলার খবর

ইরানের একাধিক শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। তেহরান ছাড়াও কেরমানশাহ, কওম, লোরেস্তান, কারাজ এবং তাবরিজ শহরে বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে তারা।

ইরানের শাসকগোষ্ঠী পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত হতে পারবে না, বললেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল “ইরানের সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠীর তৈরি করা হুমকি দূর করতে” একটি অভিযান শুরু করেছে।

“আমি আমাদের মহান বন্ধু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার ঐতিহাসিক নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানাই। ৪৭ বছর ধরে আয়াতুল্লাহ শাসকগোষ্ঠী ‘ইসরায়েলের মৃত্যু হোক’, ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান দিয়ে আসছে,” বলেছেন তিনি।

বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, “তারা আমাদের রক্ত ঝরিয়েছে, বহু আমেরিকানকে হত্যা করেছে এবং নিজেদের জনগণকেও হত্যা করেছে। এই হত্যাকারী সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেওয়া যাবে না- যা তাদের সমগ্র মানবজাতিকে হুমকি দেওয়ার সুযোগ করে দেবে। আমাদের যৌথ পদক্ষেপ সাহসী ইরানি জনগণকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজের হাতে নেওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করবে”।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, “সময় এসেছে ইরানের সব জনগোষ্ঠীর—পার্সিয়ান, কুর্দি, আজারি, বালুচি এবং আহওয়াজি— অত্যাচারের শৃঙ্খল ভেঙে একটি স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ ইরান গড়ে তোলার। আমি ইসরায়েলের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করুন”।

“আগামী দিনগুলোতে ‘অপারেশন দ্য রোর অব দ্য লায়ন’-এ আমাদের সবার ধৈর্য ও দৃঢ়তার প্রয়োজন হবে। আমরা একসাথে দাঁড়াব, একসাথে লড়ব এবং একসাথে ইসরায়েলের চিরস্থায়িত্ব নিশ্চিত করব,” বলেন তিনি।

কাতার ও বাহরাইনে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ

কাতার এবং বাহরাইনের মার্কিন দূতাবাসগুলো শনিবার তাদের কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলেছে।

একইসঙ্গে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পর ওই দেশগুলোতে বসবাসকারী আমেরিকান নাগরিকদেরও একই কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই দূতাবাসগুলো দুটি পৃথক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে যে তারা “তাদের সকল কর্মীদের জন্য একটি আশ্রয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে”।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব আমেরিকান নাগরিককেও একই কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *