ভালোবাসা পচনশীল, রাখতে হয় যত্নের আলোয়
ঝড়ের রাতে প্রদীপের কাঁপা শিখার মতো
তৃষ্ণার্ত শিকড়ে ঢেলে দিতে হয় জল
আগলে রাখতে হয় পরম মমতায়।
রং থাকে, সুবাস হারায়
স্মৃতি পড়ে থাকে বুকের ভেতর
অযত্নে ঝরে যায় ফুলের পাপড়ি
ফিরে আসে না ভালোলাগার অনুভূতি।
যত্ন মানে কেবল পাশাপাশি নয়
দূর থেকেও নিরবে খোঁজ রাখা
কষ্টের আড়ালে জমে থাকা
মমতার দীর্ঘশ্বাস।
ক্ষোভ ও অভিমানে
নিঃশব্দে নিঃশংক চিত্তে
বিপন্ন কোনো মুহূর্তের কাতরতা
পাশে থেকে বাড়িয়ে হাত নির্ভরতায়।
চোখে চোখ পড়বে, হয়তো কথা হবে না
অভিমানে কথারা কখনো হারিয়ে যাবে
অচেনা নীরবতার পথে
নীরবতা মানে মমতার মৃত্যু নয়
যত্নের অভাবেই ভালোবাসার কবর হয়
হৃদয়ের দরজায় কখনো ঝুলিয়ে দিয়ো না তালা।
ভালোবাসার জন্য একটি দরজা খোলা রেখো
জ্বেলে রেখো নীরব অপেক্ষার প্রদীপ
অভিমানের দেয়াল যত উঁচুই হোক
কথা না হলেও খোঁজ রেখো
ভালোবাসা বহমান নদী
প্রবাহেই বাড়ে তার সৌন্দর্য
থেমে গেলেই জমে যায় শ্যাওলা
স্বচ্ছ জলের বুকে নামে পচনের ছায়া।
যে মানুষ তোমার সামান্য কষ্টে অস্থির হয়ে উঠত
কেমন করে একদিন সে দূরের মানুষ হয়
দূরত্ব কখনো তো একদিনে জন্মায় না
জীবনের স্মৃতিচিহ্ন সহজে হারায় না
ভালোবাসা মরে যায় ধীরে ধীরে, নিঃশব্দে
ঠিক যেমন শুকিয়ে যায় জল না পাওয়া কোনো ফুল।
অভিমানের আড়ালে, নীরবতার ওপারে তার খবর রেখো
হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার শূন্যতা সহজে পূর্ণ হয় না
বাগানে যদিও নতুন নতুন প্রজাপতি আসে
অযত্নে সে ভালোবাসার মৃত্যু হয়
হারানোর অনিবার্যতায় ঠেলে দিয়ো না
কভু তাকে জীবন থেকে বহু দূরে, অনাদরে
ঝড়েও পত্রপল্লবে আসে সজীবতা, যত্নের পেলবতা
প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে প্রকৃতির কোনো এক আশান্বিত বসন্তে।
লন্ডন | ০৭-১১-২০২৬

