সাঈদ চৌধুরী
বাংলাদেশ অ্যাফেয়ার্স কমিটি (BAC) ইউকের মতবিনিময় সভায় জুলাই যোদ্ধা ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বিলেতে আমাদের নতুন প্রজন্মের আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাদের মাধ্যমে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রবল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রবাসী নতুন প্রজন্মের মাঝে যে সম্ভাবনা ও যোগ্যতা আছে তা কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশের সাথে সংযুক্ত করতে পারলে, জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারব। শুধু সাউথ এশিয়া নয়, সারা দুনিয়ার মাঝে নেতৃত্ব দেয়া যাবে।
ভিডিও নিউজ : https://www.facebook.com/reel/1831058627869140
আর যারা বিলেত থেকে বাংলাদেশরে জন্য অবদান রাখতে চান, তাদের ব্যাপারেও নিজের অভিমত ব্যক্ত করলেন নতুন প্রজন্মের রাজনীতিক সাদিক কায়েম। ব্রিটিশ সরকার বা মূলধারার বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত প্রণয়নকারী ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি ব্রিটিশ সোসাইটির Mainstream-এ সম্পৃক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশে যারা লড়াই করতে করতে শহীদ হয়েছেন, লড়াই করার পথ বাতলে গেছেন- সে লড়াইয়ের চূড়ান্ত সফলতার জন্য ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম উপস্থিত সকলের কাছে নিজের এবং জেন-জি (Gen Z) জেনারেশনের জন্য দোওয়া চেয়েছেন।
দেশে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের সান্নিধ্য পেলে অনুপ্রেরণা মিলবে। আপনাদের সোহবত পেলে কাজের মধ্যে মোটিভেশন মিলে। প্রেরণা সঞ্চারিত হয়।

গত পঞ্চাশ বছরের ঘাত-প্রতিঘাতের পর জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অবারিত সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, আল্লাহর ইচ্ছায় এখন আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।
বিগত দিনের কঠিন সময়ের আবেগপ্রবণ (Emotional) মূহুর্তের কথা উল্লেখ করে সাদিক কায়েম দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশে আর কখনো যাতে ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে, ক্যাম্পাস গুলো যাতে আর রক্তাক্ত না হয়, আর কোন মায়ের বুক যেন খালি না হয়- সে জন্য তারা কাজ করে যাবেন। এ ক্ষেত্রে সকল মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা পুরণে যথার্থ নেতৃত্ব প্রদানের জন্য আবারো সকলের কাছে দোওয়া কামনা করেন তিনি।

ব্রিটেনে আইন, অর্থনীতি, শিক্ষা, সেবা ও প্রশাসনিক কাজে যুক্ত বাংলাদেশীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ডাকসু ভিপির সুচিন্তিত, অভিজ্ঞতা-প্রসূত ও দূরদর্শী বক্তব্য মুগ্ধতা ছড়িয়েছে।
গ্রেট বৃটেনের বিভিন্ন শহর থেকে আসা মেধাবীদের প্রত্যাশা ও দেশ দ্রোহিদের ষঢ়যন্ত্র মোকাবেলা বিষয়ক অনেক প্রশ্নের জবাব দেন জুলাই যোদ্ধা ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।
সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা অপপ্রচার সম্পর্কে সজাগ থাকা এবং রাষ্ট্রীয় আইনি কাঠামোর সঠিক প্রয়োগ ইত্যাদি বিষয়ে অনেকের পরামর্শ ও অভিমত যত্নসহকারে নোট করেন তিনি।

ডাকসু নির্বাচনের সময় সকল প্রকার অপপ্রচার মোকাবেলার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, আমরা ব্যাপক কাজের মাধ্যমে সকল মিথ্যাচার মোকাবেলা করেছি এবং আল্লাহর রহমতে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছি।
বিভিন্ন সারর্ভে রিপোর্ট মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০% শিক্ষার্থী তাদের কাজে বেশ খুশী বলে জানান সাদেক কায়েম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে রাজনৈতিক দলের নেতাদের দ্বারা পরিচালিত ভয়াবহ ‘গণরুম’ ও ‘গেস্টরুম’ আতঙ্কের কথা উল্লেখ করে সাদিক কায়েম বলেন, আমরা এই ‘গণরুম’ ও ‘গেস্টরুম’ কালচার চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছি।
আবাসিক সংকট মোকাবেলায় ২৮৪১ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে ডাকসুর ভিপি বলেন, ছাত্রদের জন্য ৫টি ও ছাত্রীদের জন্য ৫টি মোট ১০টি নতুন আবাসিক হল নির্মাণ করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ সংস্কার ও ইসলামোফোবিয়া দূর করার বিষয়ে অনেক কাজ হয়েছে জানিয়ে সিরাত মাহফিল-সহ বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন সাদিক কায়েম। সামনে নির্বাচন হলে ছাত্রশিবির পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হবে বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সাদিক কায়েম নিজেকে বাংলাদেশের ‘ভূমিপুত্র’ হিসেবে দাবি করে বলেন, ডাকসুতে আমরা প্রমান করেছি, আমরা পারি। বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতি ইঞ্চি মাটি নিরাপদ করা সম্ভব ইনশাআল্লাহ।
জুলাই বিপ্লবের সঠিক ইতিহাস প্রচারের দাবির জবাবে ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, আমি একটি বই লিখেছি। অন্যদেরও উৎসাহিত করছি। দুনিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করছি।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে প্রবাসীরা যে ভূমিকা পালন করেছেন সে জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই জুলাই যোদ্ধা সাদিক কায়েম।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ঢাকা দক্ষিনের মেয়র হিসেবে জয়ী হবেন বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তারা ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’ তথা মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাদিক কায়েমের মতো সৎ, সাহসী ও প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব তুলে ধরেন।
শনিবার (২০জুন ২০২৬) ইস্ট লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেল এলাকার একটি হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অ্যাফেয়ার্স কমিটি ইউকের সভাপতি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান।

ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামের পরিচালানায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জতিক আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা, এস্পায়ার পার্টির চেয়ারম্যান কে. এম. আবু তাহের চৌধুরী, গ্রেটার সিলেট ডেভলাপমেন্ট কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার আতাউর রহমান, প্রবাসী ভোটাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ব্যারিস্টার নাজির আহমদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নোমান আল আজমী, ব্যারিস্টার ইকবাল হোসাইন, ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিবিসিসিআই) ডিজি ব্যারিস্টার দেওয়ান মেহেদী, টিভি ওয়ানের ডাইরেক্টার শায়েখ আব্দুর রহমান মাদানি, দাওয়াতুল ইসলাম ইউকের সাবেক আমীর মাওলানা এ কে এম মওদুদ হাসান, এমসিএ’র সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল মতিন চৌধুরী, খ্যাতিমান সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তাইসির মাহমুদ প্রমুখ।
বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এলএমসি ও ইএলএম চেয়ারম্যান ড. আব্দুল হাই মোরশেদ, সোসাইটি অফ বাংলাদেশী সলিসিটর্স সভাপতি ব্যারিস্টার নুরুল গাফফার, বিবিসিসিআই ডিরেক্টর আবুল কালাম আজাদ, ফেইথ ইন্সপায়ারের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট হুসাইন সিপার, ব্যারিস্টার সাঈদ হাসান, ব্যারিস্টার খালিদ নূর, এম এইচ গ্লোবালের ডাইরেক্টর গোলাম মর্তুজা, বাংলাদেশ এফেয়ার্স কমিটির ডায়াস্পোরা টিমের পরিচালক সিরাজুল ইসলাম শাহীন, বিজনেস টিমের পরিচালক সুমন মাহমুদ, একাউন্ট্যান্ট কমিটির তত্বাবধায়ক আব্দুল লতিফ, মিডিয়া টিমের তত্ত্বাবধায়ক ড. শামসুল আলম গোলাপ, ইয়ুথ টিমের পরিচালক ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম সরকার, অফিস বিভাগের পরিচালক শাহরিয়ার আলম শিপার এবং ফাইন্যান্স বিভাগের পরিচালক মোস্তফা জামিল।

আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেটওয়ার্ক ইউকের সভাপতি মিয়া মোঃ তরুন, একাউন্টেন্ট আব্দুল হান্নান মিয়াজী, সাংবাদিক আব্দুল মুনিম ক্যারোল, সাংবাদিক তাওহীদুল করিম মুজাহিদ, সাংবাদিক বদরুজ্জামান বাবুল, মাওলানা সৈয়দ সালেহ আহমদ, নুরুল আফসার, ড. মোজাম্মেল হোসাইন, জুবের আহমদ আহাদ, আব্দুল্লাহ আল মুনিম, ব্যারিস্টার ওয়াহিদ মাহবুব, ব্যারিস্টার ইমরুল হাসান, ব্যারিস্টার আনসারুল আলম চৌধুরী, ব্যারিস্টার সৈয়দ তাসবীর হাসান, ব্যারিস্টার আব্দুর রউফ, একাউন্ট্যান্ট আশরাফ পারভেজ, একাউন্টেন্ট মুহাম্মদ ইউসুফ আলী, এমদাদুল হক, মুদ্দাসসির আলী, আলাউদ্দিন আল আজাদ, মুনির আহমদ খান, কাজী নাজমুল হক প্রমুখ।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন ব্যারিস্টার আরিফুল কবির চৌধুরী। জুলাই শহীদদের স্মরণে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট ইসলামী সঙ্গীতশিল্পী নাওসাদ মাহফুজ।

ডাকসুর ভিপি ও জুলাই বিপ্লবী সাদিক কায়েমকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন বাংলাদেশ অ্যাফেয়ার্স কমিটি ইউকের নেতৃবৃন্দ।
স্বাগত বক্তব্যে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান বাংলাদেশ অ্যাফেয়ার্স কমিটি ইউকের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন এবং সংগঠনের বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীল ও টিম সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন।
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের সংগ্রামে উপস্থিত সকলকে দৃঢ়তার সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সহায়তার আহবান জানান।
* সাঈদ চৌধুরী দৈনিক সময় ও মানব টিভি সম্পাদক, কবি ও কথাসাহিত্যিক

