লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের আগামী নির্বাচনে ‘টাওয়ার হ্যামলেটস ইনডিপেনডেন্টস’ পার্টি থেকে মনোনীত মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার আফজাল জামি সৈয়দ, সেন্ট ডানস্টান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আমীরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ কামরুজ্জামান গত বুধবার দুপুরে বারার সিনিয়র সিটিজেনদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। তারা প্রবীণদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন, তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে বিভিন্ন বিষয় অবহিত হন এবং টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সার্বিক উন্নয়নে তাদের পরামর্শ গ্রহন করেন।
এসময় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার আফজাল জামির পিতা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ আলী আহমদ, দৈনিক সময় ও মানব টিভি সম্পাদক সাঈদ চৌধুরী, ইসলাম চ্যানেল বাংলার বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ রেজাব উদ্দিন, সাংবাদিক ও ভিডিওগ্রাফার ছালেহ আহমদ, সমাজসেবী রইছ আলী, শফিক মিয়া, ফরিদ নেওয়াজ, শাহিন রশিদ, আব্দুল আউয়াল প্রমুখ।

এমমট সিনিয়র সিটিজেন ক্লাবে উপস্থিত প্রবীণদের সাথে আলাপচারিতায় ব্যারিস্টার আফজাল জামি বলেন, আপনাদের সাথে কিছু সময় কাটাতে পেরে আমি আনন্দিত ও সম্মানিত বোধ করছি। যখন মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলে, তখন আমাদের একটি বিষয় স্পষ্টভাবে মনে রাখতে হয়- একটি শক্তিশালী ভবিষ্যৎ কেবল তখনই সম্ভব, যখন তা অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা এবং জীবনের বাস্তব জ্ঞানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। আর এই গুণগুলো আপনাদের প্রত্যেকের মধ্যেই পরিপূর্ণভাবে রয়েছে। আপনারা বহু বছর ধরে কাজের মধ্যমে শিখেছেন, পরিবার গড়েছেন এবং সমাজে অবদান রেখেছেন। অবসরের সঙ্গে সঙ্গে সেই দক্ষতা বা অভিজ্ঞতার মূল্য কমে যায় না- বরং তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আমরা আপনাদের অভিজ্ঞতা থেকে আগামী প্রজন্মকে পথ দেখাতে চাই।
মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার আফজাল জামি সিনিয়র সিটিজেনদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে বিভিন্ন বিষয় অবহিত হয়ে তাদের কাছে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, আমরা এমন পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে আপনাদের অভিজ্ঞতা সম্মানের সাথে গ্রহন করা হবে এবং কার্যকরভাবে তা বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ, সম্পদ ও সময়ের সঠিক বণ্টন, অভিজ্ঞ, উদ্যমী ও পরিশ্রমী ব্যক্তিদের হাতে দায়িত্ব অর্পণ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ বা মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা গ্রহন করা হবে।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের অগ্রগতি সাধন, নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহ প্রদান এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে সহায়তা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, এবং জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে সুখী-সমৃদ্ধ সমাজ গড়ার জন্য ‘টাওয়ার হ্যামলেটস ইনডিপেনডেন্টস’ পার্টির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে ব্যারিস্টার আফজাল জামি আরো বলেন, তরুণদের মেন্টরিং করা, স্কুলগুলোকে সহায়তা করা, ছোট ব্যবসায় দিকনির্দেশনা দেওয়া, পারিবারিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাহায্য করা- এই সব ক্ষেত্রেই আমাদের কাজে আপনাদের পরামর্শ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা এই পথে আগে হেঁটেছেন- আপনাদের ছোট ছোট কথোপকথনই আমাদের তরুণের জীবন বদলে দিতে পারে।

‘টাওয়ার হ্যামলেটস ইনডিপেনডেন্টস’ পার্টির নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের ওল্ড এজ পেনশনার ক্লাবগুলোকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। সমাজ বিকাশে এগুলো হবে একটি সমন্বিত কমিউনিটি হাবের অংশ। এমন একটি স্থান, যেখানে প্রজন্মের মিলন ঘটবে, যেখানে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা প্রবীনদের কাছ থেকে নবীনদের দিকে প্রবাহিত হবে। যেখানে সামগ্রীক কার্যক্রম, পরামর্শ, সহায়তা ও শিক্ষা— সবকিছু এক ছাদের নিচে একত্রিত হবে। যেখানে একজন অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার একজন তরুণ শিক্ষানবিশকে পরামর্শ প্রদান করবেন; একজন দাদী গল্প ও স্মৃতিচারণের মাধ্যমে শিশুদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য শেখাবেন; চা-আড্ডার পাশাপাশি অতীতে ঘটে যাওয়া ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা ঘটনার পুনরুত্থান আবেগ ও অনুভূতির মিশেলে জানা যাবে।
এখানে ‘প্রবীণেরা কেউ একা বোধ করবেন না, বরং সবাই নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করবেন। আর এটি শুধু প্রবীণদের জন্যই ভালো নয়—এটি পুরো সমাজের জন্য ভালো এবং অপরিহার্য। কারণ যখন অভিজ্ঞতা ভাগ করা হয়, তখন সমাজ আরও শক্তিশালী, স্থিতিশীল এবং মানবিক হয়ে ওঠে। তাই আপনাদের অভিজ্ঞতা শুধু স্মৃতি নয়- আমাদরে জন্য হবে মূল্যবান সম্পদ’ ব্যারিস্টার আফজাল জামি উল্লেখ করেন।

