সরকার কি দিনের আলোকে ভয় পায়? জানতে চেয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সিলেট
শেয়ার করুন

মঙ্গলবার সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী সিলেট মহানগর আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এমপি জানতে চাইলেন- বিএনপি সরকার কি দিনের আলোকে ভয় পায়?

ভিডিও নিউজ: https://www.facebook.com/reel/1015716940876847

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আসলে আমি বুঝতে পারতেছি না, এটা রাতের সরকার কি না। গত পরশু দিন তেলের দাম বাড়াইছে মধ্যরাতে, মানুষ যখন ঘুমাই পড়ছে, তখন। এখন দেখি, বোর্ড মিটিং করে সবচেয়ে বড় ব্যাংকের, এটাও দেখি রাতের বেলা। এরা কি দিনের আলোকে ভয় পায়?

ডা. শফিকুর রহমান এমপি আরো বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো সেনসেটিভ জায়গা, যেটাকে অর্থনীতির হার্ট বলা হয়ে থাকে, সেই জায়গায় একজন লোককে গভর্নর হিসেবে বসানো হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে না, বিশ্বের ইতিহাসে এ ধরনের কোনো দুর্বল ব্যক্তিকে সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নর করা হয়েছে- এর কোনো ইতিহাস নাই, নজির নাই। তিনি নিজে একজন ঋণখেলাপি। তিন মাস আগে তিনি ঋণখেলাপির দায় থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, জেলা পরিষদের প্রশাসক, তার পরে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিভিন্ন জায়গায় এখন এমন সব লোককে বসানো হচ্ছে, যাদের বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম-অপকর্মে দেশের আগে ১১টা পর্যন্ত বাজছিল, এখন সাড়ে ১২টা বাজাইছে।

সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামে সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশ পরিচালনা করেন মহানগরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও জেলা আমীর মওেলানা হাবিবুর রহমান।

সরকারি দলের ‘গুপ্ত’ প্রোপাগান্ডার বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, এখন আমাদের দেখবেন গুপ্ত বলা হয়। তাই না? তো আমি বলেছিলাম, গুপ্ত তো অবশ্যই। দেশের ভেতরে গুপ্ত ছিলাম। বাইরে যাইনি। গুপ্ত তো অবশ্যই। তিন বৎসরের মতো জেলে ছিলাম, ওইটা তো গুপ্তই। ওই রকম গুপ্ত থেকেই তো লড়াই করে এই দেশটা মুক্ত হয়েছে। আমরা ইনশা আল্লাহ এই দেশেই থাকব। এই দেশে থাকার নাম যদি গুপ্ত হয়, তাহলে অবশ্যই আমি গর্বিত গুপ্ত। দেশ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নাম যদি বীরত্ব হয়ে থাকে, তাহলে ওই বীরত্বকে ঘৃণা করি। রাজনীতি করতে হলে দেশের মানুষকে ধারণ করতে হবে। সুদিনে যেমন থাকব, ইনশা আল্লাহ দুর্দিনেও থাকব। দেশ ছেড়ে পালব না।

সরকারি দল গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করার প্রতিবাদ জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, আপনারা দেশের ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করার মাধ্যমে দুইটা জিনিসকে অপমান করেছেন। একটা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে অপমান করেছেন। আরেকটা জনগণকে অপমান করেছেন। মনে রাখবেন, অপমানের প্রতিশোধ জনগণ নিয়েই ছাড়ে। কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলে না। আমরা ছাড়ব না। সংসদের ভেতরে দুই-তৃতীয়াংশের উনাদের যে শক্তি আছে, সেই শক্তির বলে এটাকে ধামাচাপা দিয়েছেন; কিন্তু এটা ছাইচাপা আগুন হয়ে একসময় আগ্নেয়গিরির রূপ নেবে, ইনশা আল্লাহ।

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাক- জিনিসপত্রের দাম তিন ভাগের এক ভাগ হয়ে যাবে। তখন আর কার্ডের প্রয়োজন হবে না। তিনি বলেন, আপনি কার্ড দেবেন ২ হাজার টাকার; আর এই মানুষের পকেট কাটা হবে ২০ হাজার টাকার। তাহলে এই মানুষ বাঁচবে কীভাবে? আর কার্ড যদি দিতে হয়, তাহলে সংসদে আলোচনা করে দেন। কেউ তো নিজের পকেটের টাকা দিচ্ছেন না। জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিচ্ছেন। তাহলে সেই কার্ড পাওয়ার ক্রাইটেরিয়া, দেওয়ার ক্রাইটেরিয়া, প্রয়োজনীয়তা সব বিবেচনায় নিয়ে আলোচনা হোক, সমস্যা কী?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *