কোয়াসি গিয়ামি আসিডু বিবিসি
বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসানীতি আরও কঠোর করার পরিকল্পনার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নীতি অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারের অনুমতি ছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীরা চার বছরের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবে না।
নীতি অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পরিবর্তন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের মধ্যে স্থানান্তরের সুযোগও সীমিত করা হবে। এতদিন পর্যন্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষমতা ছিল।
সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নীতিমালা “ভিসার ব্যাপক অপব্যবহার প্রতিরোধের পাশাপাশি নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করবে” বলে জানিয়েছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ।
নতুন নীতিমালাকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস “মিসগাইডেড বা ভুলভাবে নির্দেশিত ও অপ্রয়োজনীয়” বলে অভিহিত করেছে।
এর আগে, এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা এবং জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিসাধারী বিদেশি শিক্ষার্থীরা “ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস” শর্তে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেতেন। এর অর্থ ছিল, ডিগ্রি সম্পন্ন করতে যত সময় লাগবে ততদিন তারা দেশটিতে থাকতে পারবেন।
নতুন নীতি সেই অবস্থানের ওপর নির্দিষ্ট সময়সীমা আরোপ করবে; অর্থাৎ সরকারের অনুমতি ছাড়া চার বছরের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না বিদেশি শিক্ষার্থীরা।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, “দশকের পর দশক ধরে বিদেশি শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা হাজারো মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়া এড়াতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি হয়ে আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থা অপব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ স্নাতক পর্যায়ের কোর্স সাধারণত চার বছরের হলেও, ডক্টরেটসহ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের অনেক কর্মসূচি সম্পন্ন করতে সাধারণত আরও বেশি সময় লাগে।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই স্নাতকোত্তর পর্যায়ের, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিষয়ক কোর্সে ভর্তি হন। এসব কোর্সে গবেষণা শেষ করে গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে সাধারণত বেশি সময় প্রয়োজন হয়। গবেষণার অর্থায়নে ঘাটতি এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কারণেও পড়াশোনার সময়কাল প্রায়ই দীর্ঘায়িত হতে পারে।
নতুন নীতি অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্নাতক শেষ করার পর অথবা অন্য ভিসা শ্রেণিতে পরিবর্তনের পর ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে। আগে এই সময়সীমা ছিল ৬০ দিনের।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ প্রদানকারী অলাভজনক সংস্থা নাফসা: অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস নতুন নীতিমালার সমালোচনা করেছে।
সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ফ্যান্টা আও বলেন, নতুন নীতিমালা “দীর্ঘদিন ধরে কার্যকরভাবে পরিচালিত একটি ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করছে। এটি এমন একটি সমস্যার সমাধান, যার বাস্তব কোনো অস্তিত্ব নেই।”
বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমাতে এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সীমিত করার লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর নীতিগত পদক্ষেপের অংশ এই নতুন নীতিমালা।
কিছু অভিজাত কলেজে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার চেষ্টা করেছে প্রশাসন। একইসাথে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচক শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের উদ্যোগও নিয়েছে।

