হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী সিলেট থেকে :
জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, সারাদেশের মানুষের এখন একটাই চাওয়া- আর তা হচ্ছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা। তিনি বলেন, এটা নিয়ে কোনো টালবাহনা চলবে না।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, বাংলাদেশে আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ চাই না। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, যারা আমাদের সাথে সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনে ছিলেন, তারা আজ সেই ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই পথচলা শুরু করেছেন। সমাজের সব ক্ষেত্রে তারা বেপরোয়া, নির্লজ্জভাবে দুর্নীতিকে লালন-পালন করছেন। আমরা এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি।

ডা. শফিক বলেন, যদি ফ্যাসিবাদ দমন না করেন, তাহলে জনগণ আপনাদেরও প্রত্যাখ্যান করবে। তাই বলছি, আপনারা বিষয়টি মেনে নিন। যদি না মানেন, তাহলে ইনশাআলাহ এই দেশের মানুষ জীবন দিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শিখেছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কীভাবে দাঁড়াতে হয়, তা শিখে নিয়েছে। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দুঃশাসন নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলতেই থাকবে। তাই প্রিয় সিলেটবাসী লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হোন। ডাক এলে সবাইকে সাড়া দিতে হবে। ঘরে ঘরে সেই আন্দোলনের দুর্গ গড়ে তুলতে হবে।
গণভোটের রায় সম্পর্কে জামায়াতের আমীর বলেন, কেউ কেউ মনে করছেন, আমরা শুধু কথা বলেছি। না, আমরা যে অঙ্গীকার করেছি, তা বাস্তবায়ন করব। জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করবো। তিনি বলেন, আমরা আমাদের জুলাইয়ের যোদ্ধাদের সঙ্গে বেইমানি করব না। আমরা আমাদের অঙ্গীকারের সঙ্গে বেইমানি করব না। জীবন দিয়ে হলেও লড়াই করবো জনগণের অধিকার প্রতিষ্টায়।
শনিবার (২৬ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৫টায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে জুলাই সনদ, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জনসভায় বিরোধী দলের নেতা বলেন, এখন যারা সরকারে আছেন, তারাও মজলুম ছিলেন, আমাদের সহযোদ্ধা ছিলেন। কিন্তু তারা এখন নির্লজ্জের মতো ফ্যাসিবাদের দিকেই যাচ্ছেন। তিনি গণভোটের গণরায়কে মেনে নিতে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, তা না মানলে এদেশের মানুষ জানে, কিভাবে দাবি আদায় করতে হয়। তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। দেশে সুশাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, জেনারেল ওসমানী মুক্তিযুদ্ধে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখানে তাঁর নামে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। তিনি বলেন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে সত্যিকারের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গড়ে তোলা হোক।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, রাশেদ প্রধান বলে গেলেন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্ভোগের কথা। অবিলম্বে এই সড়কের কাজ সমাপ্ত করে জনগণকে স্বস্তি দিন। সিলেটে একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা ঘর ও একজন ভিসি ছাড়া আর কিছু নাই। আমদের দাবি, সেটাকে পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দেয়া হোক। একই সাথে সিলেটের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হোক। তিনি বলেন, আল্লাহ যদি আমাদেরকে দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, সিলেটবাসীর এসব সমস্যা সমাধান করা হবে ইনশাল্লাহ।

সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদীস আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আলামা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুলাহ মিয়াজী, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আমজাদুল ইসলাম চান, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়েজ আহমদ, জাগপার কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব জিয়াউর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সিলেট জেলা সভাপতি জুনেদ আহমদ, জামায়াতের সিলেট অঞ্চল টীম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-বিকেএম সিলেট মহানগর সভাপতি মাওলানা এমরান আলম, নেজামে ইসলাম পার্টির জেলা সভাপতি মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-বিকেএম সিলেট জেলা সভাপতি হাফিজ মাওলানা ইকবাল হুছাইন, লেবারপার্টির সিলেট মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খালেদ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু প্রমূখ।

১১ দলীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমীর ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলী, হবিগঞ্জ জেলা আমীর মাওলানা মখলিছুর রহমান, সিলেট মহানগর নায়েবে আমীর ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান ও হাফিজ আনওয়ার হোসাইন খান, এনসিপির সিলেট মহানগর আহ্বায়ক এডভোকেট আব্দুর রহমান আফজল ও সদস্য সচিব কামরুল আরিফ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-বিকেএম সিলেট মহানগর সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল গাফফার ও জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফখরুল ইসলাম, এলডিপির মহানগর সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন লিটন, জেলা সভাপতি মাওলানা নুরুল আমীন নিয়াজী, এবি পার্টির মহানগর আহ্বায়ক ওমর ফারুক, জাপগার মহানগর সভাপতি শাহজাহান আহমদ লিটন ও বাংলাদেশ ডেভোলাপমেন্ট পার্টির মহানগর আহ্বায়ক কবির আহমদ প্রমূখ।

সভাপতির বক্তব্যে ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, সিলেটবাসী আপনারা শাহজালালের উত্তরসুরী। আপনাদের এলাকারই সন্তান দক্ষ রাজনীতিবিদ ডা: শফিকুর রহমান। আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আপনাদের এলাকার জামাই।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তিনিও চান, আমরাও চাই একটি সুশাসনের দেশ। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীকে বলবো, কোনো নিয়োগের আগে যাকে নিয়োগ দেবেন, তার ২০ বছরের দুর্নীতির খোঁজ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন। এটা যদি না করে নিয়োগ দেন, তাহলে আপনি বিএনপির প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। আপনি চাটুকারদের কথা বাদ দিয়ে জুলাই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন। আপনি কথাটা বুঝার চেষ্টা করুন।
অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, আমি ৭৫ সাল থেকে জামায়াতের রাজনীতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। জামায়াতের শৃঙ্খলা সশস্ত্রবাহিনীতেও নাই। জামায়াত আমির, মামুনুল হক ও নাহিদ ইসলাম এক থাকলে সরকারের পতন অনিবার্য। তারা আন্দোলনের ডাক দিলে ঢাকা অচল করে দেবে। সরকারের পতন করে ছাড়বে।
তিনি বলেন, আপনি দুর্নীতি দূর করতে পারেন নাই। আপনাকে ভুল পথে পরিচালিত করা হচ্ছে। আপনি বিএনপির প্রধানমন্ত্রী নয়, জনগণের প্রধানমন্ত্রী হোন। এস আলম, বসুন্ধরার পাহারাদার কারা। আপনার দলের নেতাকর্মীরা তাদেরকে রক্ষা করছে। তিনি আরো বলেন, আপা নাকি দেশে আসবে। এবার আসলে রক্ষা নাই। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ফাঁসি কার্যকর করা হবে।

এনসিপির আহবায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, শুনতে পেলাম ভারতের তরুণরা দেশটির শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, আন্দোলনের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। আমরা ভারতের তরুণদের স্বাগত জানাই। দেশে দেশে তরুণরা জেগে উঠছে। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই তরুণদের গড়ে উঠা নেতৃত্বে সরকার পতন হয়েছে। প্রত্যেক দেশের সরকারই তরুণদের এই আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে সম্মান করেছে। শুধু আমাদের দেশেই সরকার তরুণদের আবেগকে মূল্যায়ন করছে না। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এসে জুলাই ভুলে গেছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আজ দেশে চরম অর্থনৈতিক সংকট। বিএনপি যদি সংস্কার না করে, তাহলে এর পরিণাম তারেক রহমানকে ভোগ করতে হবে। যদি সরকার গণভোটের গণরায়কে বাস্তবায়ন না করে, তাহলে এই সরকারকে আমরা সহযোগিতা করবো না। গণভোটের গণরায়কে বাস্তবায়ন না করলে বিএনপি ৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, দেশে দেশে তরুণদের আন্দোলনে সরকার প্রধানের যে পরিণতি হচ্ছে, তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তিনি সেই পরিণতি ভোগ করতে চান কি না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদীস আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আপনারা পানি ঘোলা করার পর খান। আমরা বলেছিলাম, চুপ্পুকে অপসারণ করুন। আজ জল ঘোলা করে খেলেন। সুতরাং বলবো, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জল ঘোলা করবেন না। দেশের স্বার্থেই দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল শক্তি সুশৃঙ্খলভাবে ধাপে ধাপে অগ্রসর হচ্ছে, তখনই ভেতর থেকে একটি ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এ দেশের নাগরিকদের জন্য স্পষ্ট বার্তা, ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারার জন্য এই ঐক্য হয় নাই। জুলাই আন্দোলনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এই ঐক্য শুরু হয়েছিল, যতদিন পর্যন্ত এ দাবি বাস্তবায়ন না হবে, ততক্ষণ আমাদের এই ঐক্য থাকবে।
আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আমাদের ভাইয়েরা বিভিন্ন সময় রক্ত দিয়েছেন। অনেকে শহীদ হয়েছেন। অনেক ভাই-বোন আহত হয়েছেন, এখনো হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। আপনারাও ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের বড় অংশীদার। সুতরাং জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বিএনপির ক্ষতি আমরা চাই না। যদি গণরায়ের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন, তাহলে আপনাদের পরিণাম পশ্চিম পাকিস্তান ও আওয়ামী লীগের মতোই হবে।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, আমাদের গণদাবি তারেক রহমান সাহেব বুঝেন না। সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল বাঁকা করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী আপনাকে বলছি, আপনার দলের নেতাকর্মীরা জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বললেই পুরস্কৃত করছেন। যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, তারা অবহেলিত।

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, আমরা অতীতে দেখেছি, আওয়ামী লীগকে কিভাবে দু‘বার পুনর্বাসন করা হয়েছে। এর খেসারত এই জাতিকে দুইবারই দিতে হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাথে দিলির সম্পর্ক আছে, বাংলাদেশের জনগণের সম্পর্ক নেই। বাংগু বুদ্ধিজীবীরা কালচারাল এস্টাবলিশমেন্টের নামে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। যদি সরকার আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চায়, তাহলে বলবো আপনারা রাজনৈতিক রোজার প্রস্তুতি নেন। যেভাবে ১৭ বছর রোজা রেখেছিলেন। তিনি বলেন, সরকার প্রধানকে মনে করাতে চাই, আপনি আপনার দলকে বিশ্বাস করেন না। আপনাদের ৩১ দফাকে বিশ্বাস করেন না। পুরাতন বাংলাদেশ আর ফিরবে না।

জাগপার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, ম্যানেজ ভোটের মাধ্যমে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাস হয়ে গেল, সিলেট অবহেলিত রয়ে গেল। যারা পাঁচ মাসে উন্নয়ন করতে পারেনি, তারা পাঁচ বছরেও পারবে না। সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের দেশপ্রেমিক জনতা বিএসএফের পুশইন রুখে দিয়েছে, দেশপ্রেমিক জনতাকে স্যালুট। তবে এই তিন জেলার সীমান্ত দিয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ফিরে আসতে চাইলে বাধা দিয়েন না। তাকে সাদরে বরণ করে নেবেন। সরকার গণহত্যার বিচার দুর্বল করলেও জনতার আদালতে হাসিনার বিচার করা হবে। তিনি বলেন, ঢাকার মহাসমাবেশ থেকে দাবি না মানলে সরকার পতনের একদফা আন্দোলন শুরু হবে। গাদ্দার বিএনপি পালানোর পথ খুঁজে পাবে না।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারের পাঁচ মাসের মাথায় আমাদের মাঠে থাকার কথা না। কিন্তু বিএনপির ঘাড়ে আওয়ামী লীগ ভর করেছে, যার কারণে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে নাই। এজন্য ১১ দলীয় জোট মাঠে নেমেছে। বিএনপি যদি সংস্কার চাইতো, তাহলে অবশ্যই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতো। এখন সংবিধান সংশোধন করার কথা বলে বিএনপি জনগণকে বোকা বানাচ্ছে। বিএনপি দলীয়করণে আওয়ামী লীগকেও ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, ২০১৭ সালে একজন অতিরিক্ত সচিব অবসর নিয়েছেন। অবসরের পর তিনি ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতি করেছেন। গতকাল তাকে আবার সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সরকার আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করতে চায়।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জুলাই আন্দোলনে হাজারো ভাই-বোন শহীদ হয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। আমরা আয়নাঘরে বন্দী ছিলাম। জুলুম-নির্যাতন উপেক্ষা করে জালিম সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৬ বছর মাঠে ছিলাম। আমরা কিন্তু দেশ ছেড়ে যাইনি। তিনি বলেন, কোনো ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী সরকার যাতে না ফিরে, তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন জরুরি।

ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের অবিস্মরণীয় নাম জুলাই আন্দোলন। বৃদ্ধ থেকে শিশু আন্দোলনে নামার ইতিহাস পৃথিবীতে বিরল। একটি বৈষম্যমূলক দেশ গড়তে এই আন্দোলন গড়ে উঠেনি। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে সুবিধাভোগী বিএনপি। বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না। তারা সংবিধান সংশোধনের কথা না মেনে জাতির সাথে প্রতারণা করছে। জুলাই সনদ না মানলে আমীরে জামায়াতের নেতৃত্ব আরেকটি জুলাই আন্দোলন গড়ে উঠবে। বিএনপি ইতিহাস থেকে হারিয়ে যাবে।
এদিকে, সমাবেশ উপলক্ষে শনিবার সকাল থেকেই সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে জনতার ঢল নামে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে খণ্ড খণ্ড মিছিল সহকারে সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। সকালেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠ। সমাবেশের আশেপাশে পুলিশের তৎপরতাও দেখা গেছে।

