সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে ককটেল হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘গত ৬ জুলাই (সোমবার) রাতে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠ এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে যে কাপুরুষোচিত ও বর্বরোচিত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়, উদ্বেগজনক ও ন্যক্কারজনক। এই হামলায় দলটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং ৪ জন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমি এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।’
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে এ ধরনের হামলা দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিরই বহিঃপ্রকাশ। সমাবেশের শুরুতে আকস্মিক বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে মঞ্চের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর বিষয়টি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি সমাবেশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে না পারা স্থানীয় প্রশাসনের স্পষ্ট ব্যর্থতা। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঘটনায় প্রমাণিত হয় এ ঘটনার সাথে প্রশাসন জড়িত। দেশবাসী মনে করে, প্রশাসনের যোগাসাজসেই সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটাতে দুঃসাহস দেখিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রধান শর্তই হলো ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা। রাজনীতিতে সহিংসতা, বোমাবাজি ও খুনের পরিকল্পনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মনে রাখা উচিত, অতীতে যারা ককটেল ও বোমাবাজির রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে, তাদের পরিণতি শুভ হয়নি।
তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে জোর দাবি জানিয়ে বলেন, ‘কোনো রকম রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব না করে এই হামলার ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার রহস্য এবং এই হামলার নেপথ্যের কুশীলবদের অনতিবিলম্বে খুঁজে বের করতে হবে। প্রশাসনের সহায়তায় হামলা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’
একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এনসিপির সভায় হামলার ঘটনায় শিবিরের প্রতিবাদ
সাভারের ঈদগাহ মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা ২০২৬’-পরবর্তী শান্তিপূর্ণ সমাবেশে সংঘটিত প্রকাশ্য দিবালোকে ককটেল হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “গতকাল রাতে (৬ জুলাই) সাভারে এনসিপির সমাবেশে পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ফ্যাসিবাদ ও একদলীয় শাসনের ধারক-বাহকদের কাছে ন্যূনতম রাজনৈতিক শিষ্টাচার আশা করা বৃথা। পতিত মাফিয়া চক্র যে দেশে আবারও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্তে লিপ্ত, সাভারের এই কাপুরুষোচিত হামলাই তার প্রমাণ। এনসিপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এ ধরনের ভয়ংকর হামলা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আমরা এই হামলায় একজন ‘জুলাই শহীদের’ পিতাসহ আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”
শিবির নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু একটি পূর্বঘোষিত রাজনৈতিক আয়োজনে এমন ভয়াবহ হামলা প্রশাসনের চরম ব্যর্থতারই প্রমাণ। আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনো পতিত স্বৈরাচারের দোসররা ঘাপটি মেরে আছে, যাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটছে। এখন সন্ত্রাসীরা জুলাই অভ্যুত্থানের অংশীজনদের পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষে এসে রাজনৈতিক সমাবেশে এমন প্রাণঘাতী হামলা বর্তমান সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিদারুণ ব্যর্থতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “রাজনৈতিক কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতে এ ধরনের সশস্ত্র ও কাপুরুষোচিত হামলা দেশের সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। আমরা অবিলম্বে এই বর্বরোচিত হামলার সঙ্গে জড়িত এবং এর নেপথ্যে থাকা সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।”

