বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এআই বিজনেস সামিট, উদ্বোধন ৫ নভেম্বর

বাংলাদেশ সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

সাঈদ চৌধুরী

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প ও অর্থনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে আগামীকাল ৫ নভেম্বর রাজধানী ঢাকায় দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে এ সামিটের আয়োজন করছে।

ভিডিও নিউজ লিংক: https://www.facebook.com/reel/5547464285477911

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

মন্ত্রী জানান, আগামী ৫ নভেম্বর সকাল ১০টায় সম্মেলন কেন্দ্রের ‘হল অব ফেম’-এ সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সামিটের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য এআই-করণ’। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সময়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান প্রভাব, ব্যবসায়িক উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হবে।

দিনব্যাপী এ সম্মেলনে তিনটি বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম অধিবেশন শুরু হবে দুপুর ১২টায়। এতে এআই বিপ্লবের গতিপথ, নীতিগত চ্যালেঞ্জ, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করবেন নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় সক্ষমতা অর্জনে এআই কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হবে।

একই সময়ে ‘হল অব ফেম’-এ অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় অধিবেশন। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের মধ্যে অংশীদারিত্ব জোরদার, গবেষণা ও উদ্ভাবন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং নতুন প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় অধিবেশন। এতে ‘ডিজিটাল সহকর্মী’ হিসেবে এআই এজেন্টের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অর্ডার প্রক্রিয়াকরণ, লেনদেন সমন্বয় এবং বিভিন্ন শিল্প খাতের বাস্তব সমস্যার সমাধানে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার তুলে ধরা হবে।

প্রদর্শনীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এআইভিত্তিক পণ্য, সেবা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও ব্যবসায়িক সমাধান তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ এবং ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে থাকবে বি-টু-বি (B2B) ম্যাচমেকিং কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্ভাবকদের জন্যও এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। তাদের উদ্ভাবনী ধারণা, গবেষণা এবং এআইভিত্তিক প্রযুক্তিগত সমাধান উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদন ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। শিল্প উৎপাদন, ব্যাংকিং, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ই-কমার্স, গ্রাহকসেবা ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে এআই নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে এআইয়ের কার্যকর ব্যবহার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পরিচালন ব্যয় কমানো, কর্মদক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

তবে এ প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ, নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, মানসম্মত তথ্য-উপাত্ত, বিনিয়োগ এবং কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন। এ অবস্থায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট দেশের প্রযুক্তি খাত, ব্যবসায়ী সমাজ, উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সমন্বয় তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকবে এআইভিত্তিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রদর্শনী। এতে দেশি-বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৪০টির বেশি প্রদর্শনী স্টল থাকার কথা রয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়বে এবং প্রযুক্তিনির্ভর, উদ্ভাবনী ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

* সাঈদ চৌধুরী দৈনিক সময় ও মানব টিভি সম্পাদক, কবি ও কথাসাহিত্যিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *