সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুফতি আবুল হাসান এমপি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুেদ্ধ লড়াইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে নিজের স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে বলেছেন, অনেকেই বিপুল পরিমান টাকা ব্যয় করে এমপি হয়েছেন, আমারতো তেমন কোন খরচ হয়নি।
তিনি প্রবাসীদের অধিকার, সিলেটের ন্যায্য দাবি এবং দেশের শক্তিশালী রপ্তানি নীতি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সুশাসনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অবস্থাকে পরিবর্তনের জন্য এশিয়ার বিভন্ন দেশের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, আমরা যদি বিদেশে টাকা পাচার বন্ধ করতে পারি, মেধার ভিত্তিতে যোগ্যদের নিয়োগ ও পদোন্নতি নিশ্চিত করি এবং চামড়া, পাট ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো সম্ভাবনাময় খাতের আশানুরূপ বিকাশ ঘটাতে পারি, তবে বাংলাদেশ দ্রুত একটি শীর্ষ সারির উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত হবে।
দেশের অর্থনৈতিক সংকটে প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি টিকিয়ে রাখতে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এই অবদান জাতি চিরকাল কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ রাখবে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশের যোগ্য কাণ্ডারি হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে মুফতি আবুল হাসান বলেন, একটি আদর্শ, সুশৃঙ্খল ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের জন্য আমাদের সন্তানদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর এর জন্য জাগতিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।
ধর্মীয় অনুশাসন ও সঠিক নৈতিক শিক্ষা ব্যতিরেকে কখনো আদর্শ চরিত্র গঠন সম্ভব নয়। সৎ, খোদাভীরু, দেশপ্রেমিক এবং নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত প্রজন্মই আগামী দিনে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে নেতৃত্ব দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) ইস্ট লন্ডনের ফোর্ডস্কয়ার মসজিদ কনফারেন্স হলে খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্য সাউথ শাখা আয়োজিত গণ সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে প্রাণবন্ত আলোচনায় মুফতি আবুল হাসান এমপি এসব কথা বলেন।

শাখা সভাপতি মাওলানা সাদিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণ সমাবেশ পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কারীম মামরোখানী। বরেণ্য আলেম, জনপ্রিয় রাজনীতিক ও বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে প্রবাসীদের এই মিলনমেলা প্রমাণ করে, দেশ থেকে দূরে থাকলেও প্রবাসীরা নিজেদের সংস্কৃতি ও সম্প্রীতি টিকিয়ে রাখতে কতটা আন্তরিক।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল কাদির সালেহ। তিনি ইসলামিক স্কলার মুফতি আবুল হাসান এমপির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সিলেট-৫ আসনের জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনে ভুল করেনি। তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি আজ সারা বাংলাদেশে সৎ ও আদর্শবান নেতৃত্বের মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। এমন সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে গড়ে তুলতে খেলাফত মজলিস কাজ করে যাচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আমরা লক্ষ করছি, বিএনপি সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে। জুলাই সনদ প্রসঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের আগে তারা জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা ভঙ্গ করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে বিএনপি সরকারকে পতিত শেখ হাসিনা সরকারের পরিণতি ভোগ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক ক্বারী শায়েখ হাফিজ আহমাদ হাসানের কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সমাবেশে বিশেষ অতিথিদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব আলহাজ্ব সদরুজ্জামান খান, যুক্তরাজ্য নর্থ শাখার সভাপতি মুফতি তাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা শওকত আলী, যুক্তরাজ্য নর্থ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এনামুল হাসান ছাবীর।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কাউন্সিল অফ মস্কের চেয়ারম্যান শায়েখ হাফিজ মাওলানা শামসুল হক, হেফাজতে ইসলাম ইউকের সভাপতি শায়খুল হাদীস মাওলানা আব্দুর রহমান মনোহরপুরী, উলামা মাশায়েখ ইউকের সাবেক সভাপতি শায়েখ মাওলানা মওদুদ হাসান, প্রবীণ সাংবাদিক ও বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যাক্তিত্ব কেএম আবুতাহের চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকের সভাপতি ড. মাওলানা শুয়াইব আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়েজ আহমদ, যুক্তরাজ্য শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতি সালেহ আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ, জকিগঞ্জ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি কামাল এম সি রহমান, জকিগঞ্জ এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক আবুল হুসাইন, ইসলামিক টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন ইউকের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল হাসনাত চৌধুরী, কাউন্সিলর মাওলানা ইলিয়াস আহমদ, শহীদ ওসমান হাদীর বড় ভাই শরীফ উমর হাদী প্রমুখ।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, খেলাফত মজলিস বিয়ানি বাজার উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল আজিজ, যুক্তরাজ্য সাউথ শাখার সহ-সভাপতি হাফিজ মাওলানা এনামুল হক, যুক্তরাজ্য নর্থ শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা সুলতান মাহমুদ, বার্মিংহাম শাখার সহ-সভাপতি শাহেদ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হুসাইন আহমদ, কেম্ব্রিজ শাখার সভাপতি মাওলানা নুমান উদ্দিন, লুটন শাখার সভাপতি মাওলানা মাসরুর আহমদ বুরহান, সাউথেন্ড শাখার সভাপতি মাওলানা আশরাফুল মাওলা, লন্ডন মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জাবির আহমদ।
উল্লেখযোগ্যদের উপস্থিত ছিলেন, হাফিজ মাওলানা আব্দুল কাদির, হাফিজ শেখ মুশতাক আহমদ, আব্দুল করিম উবায়েদ, মাওলানা আতাউর রহমান জাকির, হাফিজ মাওলানা কামরুল হাসান খাঁন, মাওলানা আব্দুল আহাদ, মাওলানা মাহবুবুর রহমান তালুকদার, ড. আহজাবুল হক, কাজী মাওলানা আব্দুর রহমান, মোহাম্মদ আব্দুল গফুর, মাওলানা সালেহ আহমাদ ভূঁইয়া, মাওলানা ফুজায়েল আহমাদ নাজমুল, মাওলানা নুরুল আমীন, মুফতি মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা আনিসুর রহমান, মাওলানা দিলওয়ার হোসাইন, মাওলানা আব্দুল খালিক শাহেদ, মাওলানা কাজী ইমদাদুল হক ছাকিব, তাওফিকুল ইসলাম ছাবির, হাফিজ মাওলানা আরশাদ হোসাইন, ফখরুল আবদীন মুর্শেদ প্রমুখ।

