ব্যাংক লুটপাটের বিচার চেয়ে গভর্নরের কাছে আইনজীবীদের স্মারকলিপি

বাংলাদেশ সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও লুটপাটের বিচার দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে আইনজীবীদের সংগঠন ‘ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশ’। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে সংঘবদ্ধভাবে দুর্নীতি ও অর্থপাচার হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সাধারণ আমানতকারীদের ওপর।

মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে এ সংক্রান্ত এক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে। অনেক ব্যাংকের গ্রাহক নিজেদের আমানতের টাকা তুলতে পারছেন না। কোথাও ২ হাজার বা ৫ হাজার টাকার বেশি দেওয়া হচ্ছে না, আবার কোনো কোনো ব্যাংক গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধ করতেও ব্যর্থ হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চাইলেও এক ক্যানসার রোগী নিজের হিসাব থেকে দেড় কোটি টাকা তুলতে পারেননি। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তাকে মাত্র ৫ হাজার টাকা উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে বলে দাবি তার।

দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, গত ২৮ এপ্রিল গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আবেদন করা হলেও তারা সাক্ষাৎ পাননি। পরে স্মারকলিপিটি গভর্নরের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, বিগত সরকারের সময়ে বিশেষ একটি গোষ্ঠীকে ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে প্রভাব খাটিয়ে বসানো হয়। পরে সেই গোষ্ঠী সিন্ডিকেট তৈরি করে ব্যাংকের অর্থ লুটপাট করে সেই টাকা বিদেশে পাচার করে।

ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশের চিফ কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট আশরাফুজ্জামান বলেন, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি সরকারের প্রভাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দখল করা হয়। এরপর ব্যাংকটি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়।

তার দাবি, প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা নয়টি দেশে পাচার হয়েছে। ওই অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে অবৈধভাবে হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগ বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও স্মারকলিপিতে জানানো হয়েছে।

নেতারা সম্প্রতি পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইনের সমালোচনা করে বলেন, এই আইনের কিছু ধারা অতীতে ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তারা বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিলের দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে বিতর্কিত ও অকার্যকর করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক একটি মহল সক্রিয় রয়েছে। তারা ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে আমানতকারীদের স্বাভাবিক লেনদেন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

স্মারকলিপিতে ব্যাংক লুটপাটের বিচার, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *