সংবিধান সংস্কার পরিষদকে পাশ কাটিয়ে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রতিবাদে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট ও প্রেস ব্রিফিং

বাংলাদেশ সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

সংবিধান সংস্কার পরিষদকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেছে বিরোধীদল। সোমবার রাতে কমিটি গঠনের সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে তারা ওয়াকআউট করেন।

ভিডিও নিউজ লিংক: https://www.facebook.com/reel/880011601383373

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নাম সংসদ নেতার পক্ষে প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম।

সরকারি দলের আগের ঘোষণা মতে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের কথা থাকলেও বিরোধী দল তাদের সদস্যদের নাম প্রস্তাব না করায় ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। পরে রাত ৯টা ২৩ মিনিটে তারা ওয়াকআউট করে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।

এ সময় বিরোধী দলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি প্রথম অধিবেশনে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থাপন করেছিলেন। সেই দিনই আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্ট ব্যক্ত করেছি। এরপরে এটা সঠিক যে কয়েক দফায় মাননীয় চিফ হুইপ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্র মহোদয় আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন, বসেছেন। আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। আমরা কখনো বলি নাই যে, আমরা নাম দেব সদস্যদের। আমরা কনসেপচুয়ালি এটাকে একসেপ্ট করি নাই। আমরা বলেছি আমরা জাতির কাছে ওয়াদাবদ্ধ। যেমন ওয়াদাবদ্ধ ছিল বর্তমান সরকারি দল। আমরা নির্বাচনের আগে সবাই বলেছি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন, ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে আমরা গণভোট বাস্তবায়ন করব, এর রায় বাস্তবায়ন করব। এবং এরই প্রেক্ষিতে আমরা দুইটা শপথ নিয়েছি- একটা সংসদ সদস্য হিসেবে, আরেকটা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। আমাদের দুইটা শপথই আমরা মনে করি বিদ্যমান আছে। সুতরাং ওইটাকে যদি বাইপাস করার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়, তাহলে আমরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি।

বিরোধী দলীয় নেতা আরো বলেন, আমরা আমাদের আগের অবস্থানেই আছি। আমরা মনে করি গণতন্ত্রের দাবিই হচ্ছে জনগণের মতামতকে মেনে নেওয়া। সেই মতামত ৭০% এর কাছাকাছি জনগণের মতামত। এই মতামত যদি এইভাবে- হ্যাঁ ৬৮.৬%, এই মতামত যদি এইভাবে অবলীলায় শেষ হয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক এই পদ্ধতির উপর জনগণ আস্থা হারাবে না, শুধু বিদ্রোহী হয়ে উঠবে। আমরা মনে করি যে জনগণের এই অভিপ্রায়, মতামতকে কোনোভাবেই অগ্রাহ্য, অপমান করা উচিত হবে না। এজন্য তাদের প্রতি সম্মান রেখেই আমরা শুধু এই কমিটিতে অংশগ্রহণ করব না এটাই নয়, বরঞ্চ এই পর্বটা আমরা- যেহেতু জনগণের রায়কে সম্মান করা হচ্ছে না, তার প্রতিবাদে আমরা ওয়াকআউট করছি।

পরে সংসদে কন্ঠভোটে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন, সভপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ, সদস্য- চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, জয়নাল আবেদিন, মোহাম্মদ জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ নুরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, সাকিলা ফারজানা, মোহাম্মদ মাহমুদুল হক রুবেল এবং মোহাম্মদ অলিউল্লাহ।

এর আগে গত অধিবেশনে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংবিধান সংশোধনে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। গত ২৯ এপ্রিল সংসদের বৈঠকে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, ট্রেজারি বেঞ্চ বা সরকারি দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ১২ জনের নাম দেওয়ার কথা বলেন। একই সময়ে তিনি বিরোধী দলের কাছে ৫ সদস্যের নাম দেওয়ার প্রস্তাব দেন। ওই সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তাদের সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে জানাবেন বলে সংসদকে অবহিত করেন। পরে সংসদের বাইরে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে বিশেষ কমিটিতে বিরোধীদল কোনো নাম দেবে না বলে বিরোধীদলীয় নেতা জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *