জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করে আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন ২০২৬) রায় দিয়েছে আদালত। এই আসনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী। সাধারণত ভোটে দ্বিতীয় যিনি থাকেন তাকে নির্বাচিত হিসেবে ঘোষণা করাটাই সাধারণ নিয়ম।
আইনজীবী শিশির মনির জানিয়েছেন, আসলাম চৌধুরী ঋণখেলাপি হিসেবে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনে তার এই অংশগ্রহণ অবৈধ ঘোষিত হয়েছে এই রায়ের মাধ্যমে। এতে আসলাম চৌধুরী অযোগ্য প্রার্থী হলেন। এখন অযোগ্য প্রার্থী হওয়ার কারণে চট্টগ্রাম-৪ আসনে কী হবে, তা আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে বিস্তারিত জানা যাবে।

ঋণখেলাপি হিসেবে বিএনপির আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে একই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর করা আপিল মঞ্জুর করে এই রায় প্রদান করে আপিল বিভাগ।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আসলাম চৌধুরী অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তার ফলাফল আদালতের নির্দেশে স্থগিত ছিল। আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করে এ রায় ঘোষণা করেন।
এই রায়ে ফলে চট্টগ্রাম-৪ আসনে আবার নির্বাচন হবে, নাকি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে— এ বিষয়ে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, কোনো আসনে প্রথম হওয়া ব্যক্তি অযোগ্য হলে সাধারণত ভোটে দ্বিতীয় যিনি থাকেন তাকে নির্বাচিত হিসেবে ঘোষণা করাটাই সাধারণ নিয়ম। কিন্তু এর বাইরেও আপিল বিভাগ বিশেষ কোনো নির্দেশনা দেন কি না, সে ব্যাপারটি পরিপূর্ণ রায় প্রকাশিত হলে জানা যাবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ঋণখেলাপির অভিযোগের মুখে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির শেষ দিনে গত ১৮ জানুয়ারি বিএনপি নেতা অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরে ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর আপিল বিভাগে আবেদন করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আসলাম চৌধুরীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। এর মধ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি বেসরকারিভাবে বিজয়ী হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে নির্বাচন কমিশন এখনো চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করেনি।
১৫ জুন সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে মামলার চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে আদালত নিযুক্ত দুই অ্যামিকাস কিউরি, সিনিয়র আইনজীবী এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগী আদালতকে সহায়তা করেন। সব পক্ষের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ৩০ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করে।
আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ঋণ খেলাপি যে দলেরই হোক না, কোন ছাড় নেই। আর আইনটি কার্যকরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে নির্বাচন কমিশন।

