উত্থানের পথে বাংলাদেশ, মূল্যবোধ ফেরানো ও জাতি গড়ার স্বপ্ন || ড. মুহাম্মাদ আবদুল বারী

প্রবন্ধ-কলাম শিল্প-সংস্কৃতি সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

আট.

এই বই কেবল বুলিসর্বস্ব কোনো কর্ম নয়; বরং এটি সকলকে দেশ ও দেশের উন্নতির জন্য কাজ করতে উন্মুক্তভাবে আহবান জানাবে। এই বই তার
পাঠককে পুনরায় ভাবতে শেখাবে যে, আসলে নিজেকে বাংলাদেশি বলে দাবি করা বলতে কী বোঝায়। শুধু ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশে বসবাস করা কিংবা বাংলাদেশিদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্ম অবলম্বন করার মধ্য দিয়েই যেকোনো ব্যক্তি বাংলাদেশি হয়ে যায় না- এই বিষয়টি এ বইয়ের মাধ্যমে পাঠক বুঝতে পারবে; বরং কেউ নিজেকে কোনো দেশের অধিবাসী বলে দাবি করতে হলে তাকে সেই দেশের জন্য অবদান রাখতে হবে। বুদ্ধিবৃত্তিক, মর্যাদাগত এবং নাগরিক সকল দায়িত্ব পালন ইত্যাদি সবকিছুর মধ্য দিয়ে দেশের প্রতি নিজের কমিটমেন্ট প্রমাণ করতে হবে।

আপনি বলতে পারেন, এই বই একটি সাহসী স্বপ্নের রূপরেখা। যেই স্বপ্নের মধ্য দিয়ে এর পাঠকেরা বাংলাদেশকে ঔপনিবেশিক ও ঔপনিবেশিক শাসনোত্তর অপচ্ছায়া থেকে সরিয়ে নিয়ে একটি আলো ঝলমলে স্বনির্ভর ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাবে। একসময়কার বাংলা সালতানাতে এই অঞ্চলের যেই গৌরবগাথা সারা বিশ্বের মানুষ দেখেছে, তা পুনরুদ্ধারে কাজ করতে সচেষ্ট হবে।

কোনো দেশের উন্নয়নের পথে প্রধান বাধা হচ্ছে সেই দেশের জনগণের অতিমাত্রায় আত্মতুষ্টি। যারা নিজের দেশকে নিয়ে অতিমাত্রায় আত্মতুষ্ট হয়ে আত্মপ্রবঞ্চনায় ভোগে, তাদের দ্বারা দেশ উন্নয়নের কাজ হয় না। কাজেই নিজের দেশের প্রতি অন্ধভাবে পরিতুষ্ট থেকে সময় পার করার সময় আর নেই। জেগে ওঠার সময় এসেছে। জেগে ওঠে নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার সেই মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত আমাদের সামনে। আর এই মহতী কাজের একটি ক্ষুদ্র সংযোজন বলতে পারেন আমার এই বই। এর মধ্য দিয়ে আমি আমার পাঠকসমাজকে পুনরায় ভাবতে, প্রশ্ন করতে এবং পুনরায় কাজ করতে আহবান জানিয়েছি।

আমরা যদি বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে উন্নয়নের শিখরে দেখতে চাই, তবে আমাদের এমন কিছু নেতৃত্বের প্রয়োজন, যারা ব্যক্তিগত উচ্চাভিলাষ দিয়ে
তাড়িত হবেন না; বরং তাদের প্রতিটি কাজ ও চিন্তায় থাকবে কর্তব্যবোধের উচ্চ মানসিকতা। আমাদের এমন কিছু নেতা প্রয়োজন, যারা সত্য উচ্চারণ
করতে ভয় পাবেন না। দেশ ও জাতির বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে নিজেদের সমস্ত আরাম ও বিলাসিতাকে বিসর্জন দেবেন এবং যারা বুঝবেন, ক্ষমতা কোনো
উপভোগের জিনিস নয়; বরং এটি একটি বিশাল দায়িত্ব। (ধারাবাহিক চলবে)

ড. মুহাম্মাদ আবদুল বারী ব্রিটিশ বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, গ্রন্থকার ও প্যারেনটিং কনসালটেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *