সাঈদ চৌধুরী
দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের (IBBL) বিরুদ্ধে সরকারের ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’ এবং হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে সামগ্রিক আর্থিক খাতে বড় ধরনের সংকট ও বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী গ্রাহক ও দেশপ্রেমিক জনতা। তারা ব্যাংকটির এমডিকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা এবং বিতর্কিত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে ‘খাল কেটে কুমির আনার’ শামিল বলে আখ্যায়িত করেন।
১০ জুলাই শুক্রবার অনুষ্ঠিত সভায় বক্তাগণ ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে অযাচিত সরকারি হস্তক্ষেপের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং প্রবাসীদের অবদান ও পরবর্তী ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা বলেন, এমনিতেই বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ও তারল্য সংকটের কারণে গ্রাহকদের আস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তাই লুটেরা এস আলম গ্রুপ-সহ দেশের সম্পদ বিদেশে পাচারকারীদের ব্যাপারে দ্রুত এবং কার্যকর আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রবাসী গ্রাহক পরিষদ নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি আহবান জানান।

প্রবাসী গ্রাহকরা আরো বলেন, সম্প্রতি জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন ”দেশের অর্থ বিদেশে পাচারের ঘটনায় প্রথম ধাপে অভিযুক্ত ছয়টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে করা মামলার কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বাধীন বিশেষ টাস্কফোর্স।” এটাকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে দেশে-বিদেশে লুটেরাদের সম্পদ জব্দ ও পাচারের টাকা দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা এবং কতদূর কী হয়েছে সে বিষয়ে প্রতি মাসে গণমাধ্যমে আপডেট তথ্য প্রদান অপরিহার্য বলে দাবি করেন গ্রাহকগণ। অন্যতায় প্রবাসীরা বাংলাদেশের ব্যাংক সমূহের উপর আস্থা হারাবে এবং ব্যাংক মাধ্যমে রেমিটেন্স প্রেরণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশে ব্যাংকিং জগতে এই কঠিন ও জটিল সমস্যা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার জন্য সভায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ২৫ সদস্যবিশিষ্ট প্রবাসী গ্রাহক পরিষদের প্রাথমিক আহ্ববায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সেন্ট্রাল লন্ডনের একটি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ সরকারের সিআইপি ব্যবসায়ী গোলাম মর্তুজাকে কনভেনর এবং সিএসআরএম বাংলাদেশ ও এসএমএস মুড ইউকের পরিচালক মাহমুদুর রহমান সুমনকে মেম্বার সেক্রেটারী মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়া ব্যবসায়ী জুবায়ের আহমদ ও অল সিজনস’র স্বত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন জয়েন্ট কনভেনর মনোনীত হয়েছেন।
নবগঠিত কমিটির উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব কেএম আবু তাহের চৌধুরী, ব্যারিস্টার আতাউর রহমান, জননেতা সিরাজুল ইসলাম শাহীন, খ্যাতিমান আইনজীবী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান, ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ, ড. কামরুল আহসান, ক্যাপ্টেন (অব.) গোলাম কিবরিয়া, ড. মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন, এফকেএম শাহজাহান, সিভিক নেতা নুরুল আফসার ভূঁইয়া এবং ব্যারিস্টার মোজাম্মেল হক তুহিন।
কমিটির সদস্যদের মধ্যে আরো আছেন ব্যবসায়ী মো: ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, ক্যাপ্টেন আর কে রাকিব, আলী আহমদ, ফুয়াদ হোসেন, আলমগীর হোসেন, মার্শাল আর্টিস্ট মিজানুর রহমান জাকি, তালহা চৌধুরী, শামিম আহমেদ চৌধুরী, এনামুল হক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান, ড. মনোয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার ওয়াহিদ আহমদ মাহমুদ, ব্যারিস্টার আবদুল হালিম সরকার, ব্যারিস্টার আব্দুর রউফ রুবেল, ব্যারিস্টার ইকবাল হোসাইন, লেখক আবদুল লতিফ, শিল্পী নোমান আল আযমী, ব্যবসায়ী আনামুল হক, ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন, সাংবাদিক বদরুদ্দোজা বাবুল, সাংবাদিক তৌহিদুল করিম মুজাহিদ, ড. শামসুল আলম গোলাপ, ব্যবসায়ী মোহসিন লিটন প্রমুখ।
* সাঈদ চৌধুরী দৈনিক সময় ও মানব টিভি সম্পাদক, কবি ও কথাসাহিত্যিক

