দেশীয়’র আয়োজনে নাতে রাসূল (সা.) ও কাওয়ালী সন্ধ্যা
দেশীয় সংস্কৃতির ধারণ, লালন ও বিকাশে ঘাটতির কারণে অপসংস্কৃতি সমাজে প্রভাব বিস্তার করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি বলেছেন, সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ শুধু প্রতিবাদ, বক্তৃতা বা বিবৃতির মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়; এর মোকাবিলায় প্রয়োজন কার্যকর ও সুস্থ সাংস্কৃতিক উদ্যোগ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে পবিত্র রবিউল আউয়াল উপলক্ষে ‘দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ’ আয়োজিত নাতে রাসূল (সা.) ও কাওয়ালী সন্ধ্যা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দেশীয় সংস্কৃতির ধারণ, লালন ও বিকাশে আমরা কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছি। এ কারণে অপসংস্কৃতি আমাদের ওপর ভর করেছে। যাকে বলা যায় ‘কালচারাল অ্যাগ্রেশন’ বা সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। এই সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ শুধু প্রতিবাদ করে কিংবা বক্তৃতা দিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। সাংস্কৃতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ প্রতিরোধ করতে হবে।”
তিনি বলেন, এর মাধ্যমেই একটি জাতিকে সুস্থ ও ইতিবাচক সংস্কৃতির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব।

বক্তব্যের শুরুতে নাতে রাসূল (সা.) প্রতিযোগিতার তিন বিভাগে প্রথম স্থান অধিকারী তিন প্রতিযোগীকে পবিত্র কাবা শরিফে ওমরাহ পালনের সুযোগ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন ডা. শফিকুর রহমান।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “রাসূলের (সা.) পুরো জীবনের দিকে যদি আমরা নজর দিই, তাহলে দেখব তাঁর জীবনে রাজনৈতিক কার্যক্রমের চেয়ে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি। একটি সুন্দর গানও মানুষের অন্তরে ঈমানের নূর জ্বালিয়ে দিতে পারে, অন্তরকে তরতাজা করতে পারে।”
আলোচনা শেষে বিজয়ীদের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন জামায়াত আমীর।
অনুষ্ঠানে নাতে রাসূল (সা.) প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণের পাশাপাশি নাত ও কাওয়ালী পরিবেশন করা হয়। এছাড়া সিরাতগ্রন্থ প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন ও হাদিস ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী এবং হাদিস ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও সমাজসেবক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, লেখক ও সম্পাদক আবুল আসাদ, বিশিষ্ট সমাজসেবক নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান এমপি, অধ্যাপক মোক্তার আলী এমপি এবং কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ দেশবরেণ্য বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি সাইফুল্লাহ মানছুর। জমকালো এ আয়োজনে দেশের জনপ্রিয় শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নাত ও কাওয়ালী পরিবেশন করে।
উল্লেখ্য, পবিত্র রবিউল আউয়াল উপলক্ষে ‘দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ’ দেশব্যাপী নাতে রাসূল (সা.) প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। তিনটি বিভাগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় কয়েকশ প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে বিজ্ঞ বিচারকদের মূল্যায়ন এবং দর্শকদের ভিউ ও কমেন্টের ভিত্তিতে প্রতিটি বিভাগে সেরা ১০ জনকে নির্বাচিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে নির্বাচিত প্রতিযোগীদের হাতে নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।

