লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহ এমপির অনুষ্ঠান ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ

সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

সাঈদ চৌধুরী

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণ অঞ্চল) ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে সোমবার এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের সমাবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ব্যর্থ হয়েছে কতিপয় উত্তেজনা সৃষ্টিকারী লোকজন।

ভিডিও নিউজ সংযুক্ত: https://www.facebook.com/reel/999924265959066

ইস্ট লন্ডনের মায়েদা গ্রিল মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠান হলের বাইরে আয়োজক ও প্রতিপক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় স্লোগান-পাল্টা স্লোগান ও বাকবিতণ্ডা হয়। এর আগে এনসিপির সমর্থকদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের কারণে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীমের সাথে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে আসা স্থানীয় পুলিশ মায়েদা গ্রিল মিলনায়তনের সামনে থেকে কয়েকজনকে আটক করেছে। সেখান থেকে লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেককে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

এরপর পূর্ব নির্ধারিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ও যুব লীগের সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জন্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জুলাই বিপ্লবে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে উল্লেখ করে তাদের উদ্দেশ্যে ভবিষ্যতের জন্য রাখা একটি ডিম প্রকটে থেকে বের করে উপস্থিত সকলের সামনে প্রদর্শন করেন।

ডিমটি তাদের উৎসর্গ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এই ডিমটা আমি ডেডিকেট করছি, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে পালিয়ে থাকা, যারা নিজেরা থাকে দৌড়ের উপরে, পালিয়ে থাকে নিজেরা, কিন্তু অন্যদের বলে পালানোর জায়গা পাবেনা। দুনিয়ার সকল প্রান্তের পালিয়ে থাকা এই লোকদেরকে আমি ডেডিকেট করছি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা জুলাই বিপ্লব সফল করতে লন্ডন থেকে ইউরোপে তথা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রতিনিধিত্ব করা এবং কূটনৈতিক ফোরামে একনায়কতন্ত্র ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে পরিচালিত বহুমুখী কর্মপ্রয়াসের বর্ণনা দিয়ে বলেন, আজকেও জুলাই যোদ্ধা হাসনাত আবদুল্লাহ এমপির নিরাপত্তা রক্ষা করে ফ্যাসিবাদের দোসরদের তাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি।

অনুষ্ঠানে গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (জিএসসি) সাবেক চেয়ার ব্যারিস্টার আতাউর রহমান সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের দুর্ভোগ লাঘবে ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করা এবং অনতিবিলম্বে অন্যান্য বিদেশী ফ্লাইট চালু-সহ প্রবাসীদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।

বৃটেনের প্র্যাকটিসিং ব্যারিস্টার ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজির আহমদ বৈষম্যহীনতা, ন্যায়বিচার ও স্বৈরাচারমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের লক্ষে জুলাই বিপ্লবকে চূড়ান্ত সাফল্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু পরামর্শ প্রদান করেন।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার সাইফুদ্দিন খালেদ লন্ডন সফররত ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপির উদ্দেশ্যে বলেন, মানুষ আপনাদের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদী। আপনারা আইনের শাসন, বাকস্বাধীনতার সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর জবাবদিহিতা সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশে যথার্থ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকার রক্ষায় সমাজে সুবিচার চালু করার সংগামে এগিয়ে যান।

অনুষ্ঠানে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশাম হক এবং এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জামায়াত ও কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা বক্তব্য রাখেন।

এদিকে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এলম পার্ক এলাকায় হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশাম হকের সফরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও উসকানিমূলক আচরণের চেষ্টা করে। তাদের কর্মকাণ্ড ছিল একই সঙ্গে কাপুরুষোচিত এবং প্রত্যাশিত। আড়াল থেকে এসে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করা এবং সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়ার মুখে দ্রুত সরে পড়া— এটি আবারও প্রমাণ করেছে যে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনও ভয়ভীতি প্রদর্শন, অসহিষ্ণুতা এবং সন্ত্রাসী মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ঠিক এই রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেই প্রত্যাখ্যান করেছিল। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা, বিরোধী মতের প্রতি অসহিষ্ণুতা এবং ক্ষমতার অহংকারই শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার শাসনের পতন ডেকে এনেছিল এবং তাকে অপমানজনকভাবে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছিল। স্বৈরাচারী রাজনীতির শক্তিগুলো তখন পরাজিত হয়েছিল, আজও পরাজিত হয়েছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তারা এখন রাজনৈতিকভাবে অপ্রাসঙ্গিক এবং ইতিহাসের ভুল পাশে অবস্থান করছে।

দেশপ্রেমিক জনগনের প্রতি আহবান জানিয়ে বলা হয়, আমরা দেশ ও প্রবাসে অবস্থানরত সকল দেশপ্রেমিক বাংলাদেশির প্রতি আহ্বান জানাই, এ ধরনের উসকানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। জুলাই বিপ্লবের আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে, তা কোনোভাবেই তাদের দ্বারা ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা এবং জনগণের ইচ্ছাই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবে।

* সাঈদ চৌধুরী দৈনিক সময় ও মানব টিভি সম্পাদক, কবি ও কথাসাহিত্যিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *