জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে (ইউএনজিএ) অংশগ্রহণের পাশাপাশি নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তানসহ সাত দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এই সাত নেতা হলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচ, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আমে, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল।
ইউএনজিএতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী এসব নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বৈঠকগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও ব্যবসা সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে আলোচনা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মতবিনিময় হয়েছে।
তারেক রহমান মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বিন আবদুল্লাহ আল সৌদ এবং সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ডের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন।
এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেইদ রাদ আল হুসেইন ও গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক সুজম্যানের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
এসব বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাব্য উপায় নিয়েও আলোচনা হয়।
এছাড়া নিউইয়র্কে অবস্থানকালে তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকট, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে উপকূলীয় দেশগুলোর অস্তিত্বের জন্য তৈরি হওয়া হুমকি, জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায়সংগত উত্তরণ এবং মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ধাত্রীবিদ্যাকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
তিনি জেপিমরগ্যান চেজের আয়োজনে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি প্রাতঃরাশ বৈঠকেও অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং বাণিজ্য ও আর্থিক খাতের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে আসা রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজ এবং বিশ্বনেতা ও তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া প্রাতঃরাশেও অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে পৌঁছান। সফরে তিনি ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
২২ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে যোগ দেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্বমঞ্চে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন। ইউএনবি

