ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শান্তি চুক্তি অনেক দূরে, হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ

আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্য সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু উভয় দেশই একটি শান্তি চুক্তি থেকে অনেক ‘দূরে আছে’।

যদিও ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সাথে ‘অত্যন্ত ভালো আলোচনা’ চলছে এবং তিনি হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানকে কোনা ‘ব্ল্যাকমেইল” করতে দিবেন না।

ওদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইরানের জাহাজ ও বন্দরের ওপর মার্কিন অবরোধ না তোলা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে যে, যুদ্ধজাহাজ রুশমোর (এলএসডি-৪৭) জাহাজে অবস্থানরত নাবিক ও মেরিনরা আরব সাগরে নৌ অবরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেন্টকম এই বাহিনীর প্রস্তুতির কিছু ছবিও প্রকাশ করেছে।

ইউরেনিয়াম সরাতে সহায়তার আগ্রহ রাশিয়ার

ওদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটম এর প্রধান অ্যালেক্সেই লিখাচেভ বলেছেন, ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে রাশিয়া সহায়তা করতে পারে। শিল্পবিষয়ক টেলিগ্রাম চ্যানেল স্ত্রানা রোসাটম এই খবরটি প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি ফার্সি বিভাগ।

“প্রযুক্তিগত বিষয়ের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ চুক্তিতে বিশ্বাস একটি বড় ইস্যু,” বলেছেন তিনি।

মি. লিখাচেভ বলেন, এক্ষেত্রে রাশিয়ার ইরানের সঙ্গে কাজ করার ইতিবাচক অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৫ সালে ইরানের অনুরোধে রাশিয়া সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তরে সহায়তা করেছিল এবং এখনো তারা একইভাবে সাহায্য করতে প্রস্তুত।

ইউরেনিয়াম নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি ইরানের প্রত্যাখ্যান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দিন আগে দাবি করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ এবং তেহরান প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি হয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এর আগে গত মার্চের শুরুতে রোসাটম ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে তাদের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করে এবং সেখানে নির্মাণ কাজ স্থগিত করেছিল।

‘ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের মহান মিত্র’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল- এ লিখেছেন: “মানুষ ইসরায়েলকে পছন্দ করুক বা না করুক, এই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি চমৎকার মিত্র হিসেবে প্রমাণিত”।

তিনি ইসরায়েলের জনগণকে ‘সাহসী, বীর, বিশ্বস্ত এবং বুদ্ধিমান’ হিসেবে বর্ণনা করেন। “অন্যদের মতো নয়, যারা সংঘাত ও চাপের সময় তাদের প্রকৃত চেহারা দেখিয়েছে। ইসরায়েল কঠোরভাবে লড়াই করে এবং জানে কিভাবে জিততে হয়,” লিখেছেন তিনি।

‘নেতানিয়াহুর চাপে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে’

সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিস বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরান যুদ্ধে ঠেলে দিয়েছেন। যদিও তিনি এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি। তবে তিনি বলেছেন, আমেরিকার জনগণ এই সংঘাত চায় না।

কামালা হ্যারিস আরও অভিযোগ করেন যে, ট্রাম্প এই যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ব্যবহার করছেন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন সম্পর্কিত নথি প্রকাশ থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর জন্য।

মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক নারীদের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কামালা হ্যারিস আরও বলেন, তিনি আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন। বিবিসি ও রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *