বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সারাদেশে ‘মবতন্ত্র’ কায়েমের অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। বুধবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে এ মন্তব্য করেন।
সাদিক কায়েম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘মব কালচার’ শেষ হওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সেই বক্তব্যের মিল নেই বলে দাবি করেন তিনি।

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হককে ঘেরাও করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন ডাকসু ভিপি। মঙ্গলবার এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ বলে জানিয়েছে।
সাদিক কায়েমের দাবি, রামেবির উপাচার্যকে পদত্যাগে বাধ্য করার সময় বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতাকে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে। তিনি জিয়া মঞ্চের মহানগর সভাপতি কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ এবং রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস সালামের নাম উল্লেখ করেন।
তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ঠিকাদারি কাজ ও টেন্ডারসংক্রান্ত অসন্তোষের জেরেই উপাচার্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে বিএনপির রাজশাহী মহানগর নেতৃত্ব এ ঘটনাকে দলীয় সিদ্ধান্ত নয় বলে দাবি করেছে। মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন আর রশিদ মামুন বলেছেন, বিএনপি মবের পক্ষে নয়; দলের কেউ ব্যক্তিগতভাবে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এদিকে রামেবির উপাচার্য ও তাঁর একান্ত সচিবকে জোর করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা মামলা করেছেন। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সাদিক কায়েম প্রশ্ন তোলেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে হলে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে কি না। তাঁর মতে, রাজনৈতিক চাপ, ঘেরাও ও হুমকির মাধ্যমে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে পদত্যাগে বাধ্য করা হলে রাষ্ট্রের স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।
পোস্টে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং সম্প্রতি রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন।

