আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ। কর্মসূচিকে সামনে রেখে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা ১১টায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
লংমার্চকে ঘিরে ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লংমার্চের রুটে থাকা সব জেলা ও মহানগরী শাখায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবে।
পথে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালপাই, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরে রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হবে।
তিনি জানান, লংমার্চের প্রস্তুতি নিয়ে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। জনগণের ব্যাপক সাড়া ও প্রশাসনের সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণতন্ত্র ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে এর আগে ছয় দফা দাবি নিয়ে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করা হয়েছিল। এবার এর সঙ্গে আরও একটি দাবি যুক্ত হয়ে মোট সাতটি দাবি হয়েছে।
তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের কোটি কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিটি নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের যেকোনো দ্বিধা বা সংশয় দ্রুত দূর করে কূটনৈতিক চ্যানেলসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
মিয়া পরওয়ার দাবি করেন, ঢাকা-রংপুর লংমার্চকে স্বাগত জানাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রস্তুত রয়েছে। নারীরাও বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে লংমার্চের বহরকে অভিবাদন জানাবেন বলে তারা খবর পেয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, লংমার্চের বহরে এক হাজারের বেশি গাড়ি যুক্ত হতে পারে এবং এসব গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নির্ধারণ করা হয়েছে।
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আহ্বান
লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা। একই সঙ্গে তিনি দলের নেতাকর্মীদের যেকোনো ধরনের উসকানিতে পা না দেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, কোনো ধরনের বাধা বা উসকানির মুখে ধৈর্য ও সংযম বজায় রেখে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি সফল করতে হবে। এমনকি কেউ ক্ষতিগ্রস্ত বা আহত হলেও প্রতিশোধ নেওয়ার পরিবর্তে লংমার্চ সফল করাকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় সরকারি দল বিএনপি, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, ট্রাফিক বিভাগ, রাস্তার পাশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পথচারী, যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের সহযোগিতা কামনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা
লংমার্চের সংবাদ সংগ্রহে আসা গণমাধ্যমকর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। গণমাধ্যমের গাড়িগুলো বিনামূল্যে রাখার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশবাসী ও ১১ দলের নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানান। এর আগে লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিভিন্ন বিভাগের প্রস্তুতি পর্যালোচনা এবং দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।

