বিনা খরচে দুবাই যাচ্ছেন শরীয়তপুরের ১১ ওয়ার্কার, অপেক্ষায় ১৫৯ জন

বাংলাদেশ সাম্প্রতিক
শেয়ার করুন

দুবাই যাওয়ার আশায় ছয় মাস আগে এক দালালকে ৩ লাখ টাকা দিয়েছিলেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নূর হোসাইন। দালাল টাকা নেওয়ার পর আর যোগাযোগ না করায় প্রতারণার শিকার হন তিনি। সেই ঋণের টাকা শোধ করতে গিয়ে পরিবার নিয়ে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে তাকে।

তবে সেই হতাশার মধ্যেই নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন ৩৫ বছর বয়সী নূর হোসাইন। কোনো টাকা খরচ না করেই কনস্ট্রাকশন কাজের প্রশিক্ষণ নিয়ে এবার দুবাই যাচ্ছেন তিনি।

নুর হোসেনের মতো শরীয়তপুরে হতদরিদ্র পরিবারের মোট ২১৬ জন যুবক বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিয়ে ওয়ার্কার ভিসায় দুবাই যাচ্ছেন বিনা খরচে। আর এই উদ্যোগ নিয়েছে শরীয়তপুর ২নং আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণের জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ম্যাটকো।

নূর হোসাইন নড়িয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের রাজাপুর এলাকার কৃষক ইয়াজল মোল্লার ছেলে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা নূর সাত ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয়। তার চার ভাই বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন।

নূর হোসাইন বলেন, দুবাই যাওয়ার জন্য ছয় মাস আগে দালালকে ৩ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। এক লাখ টাকা ফেরত দিলেও আর টাকা ফেরত দেয়নি। প্রতারিত হয়েছি। স্থানীয় নুসা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলাম। সেই টাকা শোধ করতে গিয়ে অনেকটা না খেয়ে থাকতে হয়েছে। টেনে-টুনে ৮০ হাজার টাকার মতো শোধ করেছি।

তিনি বলেন, এখন কনস্ট্রাকশনের কাজ শিখে বিনা খরচে ১১ জন দুবাই ওয়ার্কার ভিসায় যাচ্ছি। এখানে আমার এক টাকাও লাগেনি। প্রায় দেড় মাস স্টিল ফিক্সিংয়ের কাজ শিখেছি। এবার বিদেশে গিয়ে কাজ করে পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবো।

শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণের জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ম্যাটকো এন্টারপ্রাইজে নূর হোসাইন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তার বিদেশ যাওয়ার সব খরচ বহন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

ম্যাটকো এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি ও সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণের ব্যক্তিগত সহকারী শাহাদাত হোসেন উজ্জ্বল বলেন, মোট ২১৬ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ওয়ার্কার হিসেবে দুবাই পাঠানো হবে। এর আগে ২২ আগস্ট ৪৬ জনকে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১১ জনের হাতে পাসপোর্ট, ভিসা ও ডকুমেন্টস প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এখনও আরও ১৫৯ জন দুবাই যাওয়ার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা স্টিল ফিক্সার, মেসন, ক্লিনারসহ বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

উজ্জ্বল জানান, কর্মীরা মাসে এক হাজার থেকে ১২শ দিরহাম বেতন পাবেন। এর পাশাপাশি ওভারটাইমের সুযোগও থাকবে। একজন কর্মীকে দুবাই পাঠাতে আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ১১ জন দুবাইগামী কর্মীর হাতে পাসপোর্ট, ভিসা ও চেক তুলে দেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম।

এ সময় দুবাইগামী কর্মীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, আপনারা যারা বিনা খরচে দুবাই যাচ্ছেন, আপনারা আমাদের দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আপনাদের জন্য আমরা গর্বিত। যারা দুবাই যাবেন, তারা দুবাইয়ের আইন মেনে যথাযথভাবে চলার চেষ্টা করবেন। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজ এড়িয়ে চলবেন।

তিনি শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তার উদ্যোগ দেখে দেশের অন্যান্য সামর্থ্যবান ও আগ্রহী ব্যক্তিরাও এ ধরনের উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত হবেন। বাসস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *