সাঈদ চৌধুরী
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক সিলেট জেলা আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য, বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও ইসলামিক স্কলার, অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী চলে গেছেন মহান মাবুদের দরবারে। ইন্না- লিল্লা-হি ওয়া ইন্না- ইলাইহি রা-জিউ’ন।

সকলের প্রাণপ্রিয় ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর জানাজায় অংশ নিতে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। শেষ বারের মতো এক নজর দেখতে প্রবীনদের পাশাপাশি তরুণদের ছিল বিপুল সমাগম। জানাজায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। সেখানে হাজির হয়েছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতকি ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী ও সমাজসেবী। সময়ের আগেই আশপাশ এলাকা থেকে জড়ো হতে থাকেন অসংখ্য মানুষ।
লোকে লোকারণ্য জানাজা অনুষ্ঠানে শেষ বিদায়ের মুহূর্তের আবেগঘন কান্নার রোল ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মর্মস্পর্শী একটি দৃশ্য।
ভিডিও নিউজ : https://www.facebook.com/reel/2225476794857947
১২ জুন শুক্রবার রাত দেড়টায় সিলেট নগরের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। যার ইন্তেকালে সিলেট-সহ দেশে-বিদেশে পরিচিত মহলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে ও ৪ কন্যাসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শনিবার বিকেল ৪টায় সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত তালবাড়ি মাদরাসা মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গ্রামে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।
অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি জামায়াতের সিলেট জেলা আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য হিসেবে দীর্ঘ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন।
সমাজ সংস্কার, ইলমে দ্বীনের প্রচার এবং ইসলামী ঐক্যের ব্যাপারে অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর অবদান অবিস্মরণীয়। ধর্মীয় ও আধুনিক জ্ঞানের সমাহারে তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ আলোচনা ও সমাজ বিশ্লেষণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আন্দোলন বাংলাদেশে নতুন মাত্রা সৃষ্টি করেছে।
আজীবন শিক্ষা, সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজে জড়িত ছিলেন অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি সিলেট নগরের মিরাবাজার জামেয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মেজর টিলায় আল-আমিন জামেয়া স্কুল, পাঠানটুলায় জামেয়া কামিল মাদ্রাসা-সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অনন্য অবদান রেখেছেন। এছাড়া নিজের জন্মমাটি কানাইঘাট উপজেলার তালবাড়ি গ্রামের পৈতৃক সম্পত্তিতে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি ফাজিল মাদ্রাসা।
একজন মহৎ মানুষের প্রকৃত উদাহরণ অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। যে মহত্ত্বের প্রমাণ মেলে সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর অফুরান ভালোবাসায়, আর ত্যাগের মানসিকতায়। মানবতার কল্যাণে যিনি উৎসর্গ করেছেন সারাটা জীবন।
ভালোবাসায় অশ্রুসিক্ত বিপুল সংখ্যক মানুষের গভীর আবেগ, বিদায়লগ্নের মমতা আর স্মৃতির রোমন্থনে সৃষ্ট অপূর্ব দৃশ্য থেকে বিষয়টি হয়েছে জ্বাজল্যমান।
সবসময় সমাজের অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর মানবিকতা ও সহমর্মিতা প্রকাশ পেয়েছে। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা না ভেবে সর্বদা অন্যের কল্যাণ কাজে প্রমানিত হয়েছে তাঁর নিঃস্বার্থ মানসিকতা।
সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের অবস্থান নিয়ে অহংকার না করে সবার সাথে সমান ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে স্থাপন করেছেন বিনয় ও সততার দৃষ্টান্ত। বৃহত্তর স্বার্থে যে কোন রকম সেক্রিফাইস তথা ত্যাগের মানসিকতার উজ্জ্বর উদাহরণ হিসেবে তাঁকে দেখেছি। কর্ম জীবনের সকল স্তরে বিশেষত শাহজালাল জামেয়ায় তিনি জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে সফল হয়েছেন।
এই অনন্য ব্যক্তিত্বের কথা বহুকাল ধরে মানুষ স্মরণে রাখবে। মহান আল্লাহ তায়ালা অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী আহন মহিমায় ক্ষমা করুন এবং শান্তির সর্বোচ্চ মাকাম জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন। আমীন।
* সাঈদ চৌধুরী দৈনিক সময় ও মানব টিভি সম্পাদক, কবি ও কথাসাহিত্যিক

